মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে যারা দীর্ঘদিন ধরে নজর রাখছেন, তাঁদের কাছে শুক্রবারের হোয়াইট হাউসের বৈঠকটি মোটেই বিস্ময়ের নয়। কারণ ট্রাম্প এমন এক নেতা, যিনি রাজনৈতিক বিপাকে পড়লে নীতিগত বা প্রশাসনিক সমাধান খোঁজেন না—বরং নিজের চারপাশে একটি নাটকীয় সংঘাত তৈরি করেন। আর সেই সংঘাতের ভেতর দিয়ে তিনি নিজের সমর্থকদের উজ্জীবিত করেন এবং সমালোচনার আগুনকে অন্যদিকে ঘোরান।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলো তাঁর জন্য ছিল অস্বস্তিকর। রিপাবলিকান পার্টিতে তাঁর প্রভাব নড়বড়ে হয়ে আসছে, এপস্টেইন–সম্পর্কিত মন্তব্য নিয়ে তদন্তের দাবিও উঠেছে, এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে তাঁর “সহানুভূতি ভূমিকা” রীতিমতো ব্যঙ্গের জন্ম দিয়েছে। এর ওপর ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহে উসকানি’ অভিযোগ এনে ‘মৃত্যুদণ্ড দাবি’—এটি ট্রাম্পকে এক বিরল রকমের সংকটে ফেলেছে।
এমন সময়েই তিনি ডেকে আনলেন নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিকে। মামদানি তরুণ, উদ্যমী, প্রগতিশীল—অন্যদিকে ট্রাম্প ৭৯ বছর বয়সী এবং দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতির পুরোধা। বয়স, রাজনীতি ও আদর্শ—সবদিক থেকেই তাঁরা বিপরীত মেরুতে। এটিই ট্রাম্পের কাছে সুযোগ—ডেমোক্র্যাটদের ‘চরমপন্থী’ বলে চিত্রিত করতে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তরুণ প্রগতিশীলদের বিরুদ্ধে কৌশলগত অবস্থান তৈরি করতে।
মামদানির নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা, তাঁকে ‘কমিউনিস্ট মেয়র’ আখ্যা দেওয়া—এসবই একটি পরিচিত স্ক্রিপ্ট, যা ট্রাম্প বহুবার ব্যবহার করেছেন। বারাক ওবামার জন্মসনদ বিতর্ক, ম্যাককেইনকে অপমান করা কিংবা ২০২০ নির্বাচনে জয় দাবি—সবই একই ধারার প্রচারণা। যখনই তিনি কোণঠাসা হন, তিনি লড়াই বানিয়ে তোলেন এবং রক্ষণশীল মিডিয়া তাঁর জন্য মঞ্চ সাজিয়ে দেয়।
কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপে, বৈদেশিক নীতিতে অস্থিরতায়, আর রিপাবলিকান পার্টি অভ্যন্তরীণ বিভাজনে ভুগছে। তাই প্রশ্ন উঠছে—এই পুরোনো কৌশল কি এবারও ট্রাম্পকে রক্ষা করবে?
অন্যদিকে, মামদানি এখন জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় উঠে এসেছেন। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের মুখোমুখি হওয়া তাঁর জন্য শুধু প্রথম বড় পরীক্ষা নয়—এটা মার্কিন রাজনীতিতে তাঁর ভবিষ্যৎ অবস্থানেরও ইঙ্গিত বহন করে। অতীতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউস বৈঠককে অপমান বা রাজনৈতিক থিয়েটারে রূপ দিয়েছেন। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আজকের বৈঠক মামদানির আত্মবিশ্বাস, বুদ্ধিমত্তা এবং চাপ মোকাবিলার ক্ষমতার বড় পরীক্ষাও।
সারাক্ষণে স্পষ্ট—ট্রাম্প আলোচনার টেবিলে বসছেন না সমাধান খুঁজতে; বরং বৈঠককে তাঁর রাজনৈতিক নাটকের মঞ্চ করার উদ্দেশ্যেই। আর এই নাটকের কেন্দ্রবিন্দুতে এবার আছেন ৩৪ বছর বয়সী এক প্রগতিশীল মেয়র—জোহরান মামদানি।
