সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় এক বিদ্যালয় শিক্ষক তাঁর ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ দায়ের করেছেন শিক্ষক মনোয়ার হোসেনের প্রথম স্ত্রী মোছা শামীমা জাহান, যিনি জানিয়েছেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া শিক্ষক দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এ ঘটনায় বুধবার (১৯ নভেম্বর) তিনি তাড়াশ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগে শামীমা জাহান জানান, তাঁর স্বামী মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্পর্ক চলছিল। রঘুনিলী মঙ্গলবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক মনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তার ছাত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রাখছিলেন। শামীমা জানান, মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শিক্ষার্থীর বাড়িতে গেলে তিনি স্বামীকে ছাত্রীর সঙ্গে একটি রুমে অবস্থানরত অবস্থায় দেখেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি জানতে চাইলে মনোয়ার ও শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে গালাগাল করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
শামীমা জাহান আরও উল্লেখ করেন, “এর আগেও আমার স্বামী স্কুলের অন্য এক ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক জড়িয়েছিলেন, যা নিয়ে তখনও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। আমি নিজেও একজন শিক্ষক। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। পরিবারের মান–সম্মান রক্ষার জন্য স্বামীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ করতে হলো।”
অভিযোগের বিষয়ে মনোয়ার হোসেন বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “আমি কোনো নিয়মবিরোধী কাজ করিনি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে।”
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত সম্পন্ন হলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ে শিক্ষক-ছাত্রীর সম্পর্ক নিয়ে নানা নৈতিক ও আইনগত প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষাব্যবস্থায় এমন ঘটনা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এটি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, শিক্ষকের আচরণ স্কুল ও সমাজের আস্থা নষ্ট করতে পারে। তারা চান, প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
