গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার এসব হামলায় গাজা সিটি ও খান ইউনিসসহ একাধিক স্থানে আরও অন্তত ৭৭ জন আহত হয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত সাড়ে পাঁচ সপ্তাহে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্য ছিল সংঘাত কমানো, মানবিক সহায়তা প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং বেসামরিক জনগণের জীবন রক্ষা করা। তবে বাস্তবে সহিংসতার ধারাবাহিকতা থামেনি বলে অভিযোগ করছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের প্রায় অর্ধেকই মারা যান গত সপ্তাহে একদিনে সংঘটিত বড় ধরনের ইসরায়েলি হামলায়। ওইদিন ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। একই সময় ইসরায়েল নিশ্চিত করেছে, সংঘর্ষে তাদের তিনজন সেনা নিহত হয়েছেন।
মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ভোর থেকে ইসরায়েল গাজায় হামলার মাত্রা আরও বাড়িয়েছে, যা চলমান যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব হামলায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, খান ইউনিসে তাদের সৈন্যদের লক্ষ্য করে হামলার জবাবে এসব বিমান অভিযান চালানো হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি পক্ষ বলছে, বেসামরিক এলাকাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধবিরতির শর্তের পরিপন্থী।
চলমান পরিস্থিতিতে গাজায় মানবিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে, হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা দিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানালেও মাঠপর্যায়ে সহিংসতা থামছে না, যা অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
জিলাইভ/টিএসএন
