নির্বাচন সামনে, জোট গঠনে শেষ মুহূর্তের সমীকরণ

অন্তর্বর্তী সরকার আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু তফসিল ঘোষণার সময় ঘনিয়ে এলেও ভোটের জোট গঠন ও আসন বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। বরং শেষ মুহূর্তে আলোচনা, দরকষাকষি ও কৌশলগত হিসাব-নিকাশ আরও জোরালো হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আসন্ন নির্বাচনে অন্তত চারটি জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। বড় কোনো দল এককভাবে নির্বাচনে যাবে—এমন সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ। বিএনপি তাদের সমমনা দলগুলোকে নিয়ে একটি বড় জোট গঠনের পথে এগোচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকটি দলের সঙ্গে আলাদা করে আসন সমঝোতার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সমমনা ইসলামী দলগুলো আলাদা একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এনসিপিও কয়েকটি দল নিয়ে নতুন জোট গঠনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে, আবার বিএনপি কিংবা জামায়াত—উভয় পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সিপিবির নেতৃত্বে বাম ও সমমনা দলগুলোর একটি জোট গঠনের তৎপরতাও জোরদার হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তফসিল ঘোষণার আগেই জোট ও আসন সমঝোতার বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে। দলীয় সূত্র জানায়, শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে।

বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী, বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের দলগুলোর জন্য ২০–২২টি আসন ছাড়তে পারে। এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে সমঝোতা হলে আসন ছাড়ের সংখ্যা প্রায় ৪০-এ পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও চূড়ান্ত তালিকায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, সংস্কার প্রশ্নে প্রতিশ্রুতি পেলে বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে জোট হতে পারে, নচেৎ আলাদা সংস্কার জোটের দিকেও তারা যেতে পারেন।

বাম দলগুলোর জোট প্রসঙ্গে সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকা দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর ফ্রন্ট গঠনের চেষ্টা চলছে এবং ২৫ নভেম্বর প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

দলীয় নেতারা বলছেন, বাধ্যতামূলক নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নিয়ম শরিক দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতীক অপরিচিত হওয়ায় আসন ছাড় পেলেও জয়ের সম্ভাবনা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত জোট রাজনীতির এই অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জিলাইভ/টিএসএন