যুদ্ধবিরতির পরেও গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল, নিহত বেড়ে ২৭৯

গাজার উপর গত ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘসময়ের এই সংঘাত ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ফিলিস্তিনিদের জন্য ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট তৈরি করেছে। বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সময়ে অন্তত ৩৯৩ বার তা লঙ্ঘন করেছে, যার ফলে এখন পর্যন্ত ২৭৯ জন নিহত ও ৬৫২ জন আহত হয়েছেন।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য নারী ও শিশু, যাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের অব্যাহত আগ্রাসন গাজার জনসংখ্যার উপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে, এবং এলাকার অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

একই সময়ে, দক্ষিণ লেবাননের একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরেও ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী এক শিশু এবং আল জাজিরার সাংবাদিককে গুলি করেছে। এছাড়া মঙ্গলবার পশ্চিম তীরে গাড়ি চাপা ও ছুরিকাঘাতে এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।

এই সংঘাতের মূল সূত্রপাত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, যখন হামাস ইসরায়েলের সীমান্তে আকস্মিকভাবে হামলা চালায়। এই হামলায় ১,১৩৯ জন নিহত হয় এবং প্রায় ২০০ জনকে অপহরণ করা হয়। এরপর থেকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে মানবিক পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রায় দুই বছরের এই সংঘাতের মধ্যে গাজায় অন্তত ৬৯,৪৮৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭০,৭০৬ জন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, গত দুই বছরে অন্তত ৯৪ জন ফিলিস্তিনি বন্দি ইসরায়েলি কারাগারে মারা গেছেন। সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব মৃত্যুর পেছনে শারীরিক নির্যাতন, চিকিৎসা সেবা অস্বীকার বা উভয়ের সংমিশ্রণ থাকতে পারে এবং তা পদ্ধতিগত হত্যাকাণ্ডের অংশ হতে পারে। সংস্থার তথ্যে আরও প্রকাশ করা হয়েছে, গত ১০ বছরে ইসরায়েলি কারাগারে অন্তত ৩০ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। তারা জানায়, তারা বন্দিদের প্রতি আইনানুগ আচরণ করে এবং কারাগারে কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর বিষয়গুলো স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।

সংঘাতের এই দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি গাজার নাগরিকদের জন্য মানবিক সংকটকে তীব্র করছে। খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসা সেবার উপর চাপ বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতা এবং পক্ষগুলোর মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ছাড়া গাজার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকবে।