আন্দোলনের সাউন্ড গ্রেনেডে আহত শিক্ষকের মৃত্যু

প্রাথমিক শিক্ষকদের দশম গ্রেড বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনের সময় সাউন্ড গ্রেনেডে আহত ফাতেমা আক্তার (৪৫) গত রোববার সকালে ঢাকায় মারা গেছেন। আহত হওয়ার মাত্র ১০ দিন পর এই মৃত্যু শিক্ষাক্ষেত্রে কর্মীদের আন্দোলনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ফাতেমা চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ঝিনাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি দুই সন্তানসহ পরিবারের অন্যতম দায়িত্বশীল সদস্য ছিলেন। আন্দোলনের সময় ৮ নভেম্বর শাহবাগে সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য কথা বলাও বন্ধ হয়ে যায় এবং তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত রোববার সকাল ১০টার দিকে তিনি মারা যান।

স্থানীয় সহকর্মী ও শিক্ষকরা জানান, ফাতেমা ছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও উৎসাহী শিক্ষক। তার আকস্মিক মৃত্যু শিক্ষাক্ষেত্রে আন্দোলনের সময় কর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তাঁর জানাজা গতকাল রাতে ঠাকুরচর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন।

ফাতেমার স্বামী ডি এম সোলেমান বলেন, “আমাদের জন্য এটি একটি অবিস্মরণীয় ধাক্কা। আন্দোলনের নামে যে ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে, তা আমাদের চোখের সামনে এসেছে। স্ত্রীকে হারিয়ে আমি এবং আমাদের দুই সন্তান শোকাহত।”

মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার শিক্ষক সমিতি এবং স্থানীয় থানা কর্তৃপক্ষ ফাতেমার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত শোক নয়, বরং আন্দোলন ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতার প্রয়োজনীয়তাকেও তুলে ধরেছে।