ফেনীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। বাসটি রনি-রানা পরিবহনের বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটে জেলা সদর উপজেলার রামপুর পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ এসে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন বাসের সামনের অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
আগুন লাগার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে পানি ও বালু দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এতে বাসটির সামনের অংশ আংশিকভাবে পুড়ে যায় এবং কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে ফেনী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুল মজিদ জানান, তারা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন অনেকটাই নিভিয়ে ফেলেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি নাশকতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ফেনী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, বাসটি কেন ওই স্থানে দাঁড়িয়ে ছিল এবং কারা আগুন দিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
এদিকে, একই রাতে অনলাইনে ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচির সমর্থনে ফেনীর ফতেপুর এলাকায় বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি কাঠ জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা মুখে মাস্ক পরে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির খবর পেয়ে প্রায় ১০ মিনিট পর তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
একই সময়ে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কের চিথলিয়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনেও টায়ারে আগুন দিয়ে অবরোধের চেষ্টা করা হয়। পরশুরাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল হাকিম জানান, অজ্ঞাত কয়েক যুবক টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে এবং পুরো এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
