মানিকগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্কিত এলাকাবাসী

আওয়ামী লীগের অনলাইনে ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচির আগে সোমবার (১৩ নভেম্বর) মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে আগুনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ অন্যান্য এলাকায় অন্তত ১৭ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ জানায়, কয়েক দিন ধরে ফেসবুকে আওয়ামী লীগের পেজ এবং নেতাদের পেজে ১৩ নভেম্বর ‘লকডাউন’ কর্মসূচি পালনের আহ্বান দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম সরকারি অনুমোদন ছাড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। কেউ রাস্তায় বের হলেই গ্রেপ্তার করা হবে। এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের পক্ষে বড় কোনো কার্যক্রম করা সম্ভব নয়। এছাড়া কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর আশঙ্কাও নেই।”

আজকের ঘটনার মধ্যে রাজধানীর তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এছাড়া সাতটি স্থানে কমপক্ষে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত ও দায়িত্বরতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী তৎপর। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযান চলাকালীন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।

নিচে আজকের প্রধান ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়বিবরণ
স্থানমানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, ঢাকা শহরসহ অন্যান্য স্থান
তারিখ১৩ নভেম্বর
ঘটনাবাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ
বাসে আগুন৩টি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে
ককটেল বিস্ফোরণ৭টি স্থানে অন্তত ১০টি বিস্ফোরণ ঘটেছে
নিরাপত্তা বাহিনীপুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা
মোতায়েন পুলিশ সংখ্যাঅন্তত ১৭,০০০ জন
পুলিশ মন্তব্যকাউকে রাস্তায় বের হলেই গ্রেপ্তার করা হবে; বড় কিছু করার সম্ভাবনা নেই

নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের হামলার ঘটনায় দ্রুত শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিহত করতে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।