সেনা কর্মকর্তাদের চাকরি স্থিতি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে

গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক ১৫ জন সেনা কর্মকর্তার চাকরির অবস্থা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলেও সেনাসদর জানিয়েছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিবেচনা করা হচ্ছে। চাকরি বহাল থাকছে কি না—এটি সম্পূর্ণরূপে সরকারের নির্দেশনা ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

সেনাসদরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরি বাতিলের কারণ হিসেবে গণ্য হবে না। তাই অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের চাকরি স্থায়ীভাবে বাতিল করা বা সংক্ষিপ্ত করার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষা করা হচ্ছে।

বুধবার সেনাসদরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিএস পরিদপ্তরের এজি শাখার পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মুস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের চাকরির অবস্থা সম্পূর্ণরূপে আইনগত ও পদ্ধতিগত কাঠামোর মধ্যে রয়েছে। তিনি আরও জানান, সেনাসদর সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া মেনে এবং সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তাই কোনো আগ্রহী বা গুজবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সেনাসদরের তরফে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে তাদের চাকরির স্থিতি সংরক্ষিত থাকবে। এটি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য হলো আইন ও পদ্ধতির যথাযথতা বজায় রাখা এবং কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব থেকে পদক্ষেপকে স্বাধীন রাখা।

আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তদন্ত চলাকালীন সময়ে সেনাসদর এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা সব নিয়ম ও শর্ত মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের চাকরি স্থায়ীভাবে বাতিল করা বা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদানের বিষয়গুলো আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে বিবেচনা করা হবে।

টিএসএন