গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সরকারের অর্থের গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. সাইফুজ্জামানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তিনি ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সাইফুজ্জামান লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এ কর্মরত ছিলেন।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, ঢাকার গণপূর্ত বিভাগ-৪-তে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ডিপিপি, আরডিপিপি বা হোপের অনুমোদন ছাড়াই বেআইনিভাবে একটি প্যাকেজকে আটটি প্যাকেজে বিভক্ত করে ইজিপির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করেন। এর মাধ্যমে সরকারি ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটটি প্যাকেজের কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিল জমা দেওয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে আটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ৬৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে, তবে বাস্তবে কোন কাজ সম্পন্ন হয়নি।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তের সময় তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন। অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সমস্ত আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করে অমিল চিহ্নিত করতে।
নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| কর্মকর্তার নাম | মো. সাইফুজ্জামান |
| পদবী | নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) |
| বর্তমান কর্মস্থল | লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগ |
| পূর্বের কর্মস্থল | ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ |
| অভিযোগ | সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার |
| মোট অর্থ | ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা |
| সময়কাল | ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর |
| কার্যক্রম | ১ প্যাকেজকে ৮ প্যাকেজে বিভক্ত করে বেআইনি টেন্ডার |
| প্রকৃত অবস্থা | কাজের অস্তিত্ব নেই, বিল প্রদর্শিত হয়েছে |
| পদক্ষেপ | সাময়িক বরখাস্ত, খোরাকি ভাতা প্রদত্ত |
এই ঘটনা সরকারের অডিট এবং তদারকি ব্যবস্থার অমিলকে সামনে এনে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পের সকল নথি পুনঃমূল্যায়ন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
