‘ভয়াবহ মুহূর্তে বিশ্ব’, পরমাণু হুমকি বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে কার্যকর থাকা সর্বশেষ পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’ বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। এর ফলে দুই পরাশক্তি তাদের পরমাণু যুদ্ধাস্ত্র ও ওয়ারহেড মোতায়েনের ওপর প্রযোজ্য বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত হয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি নতুনভাবে বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দ্বার খুলে দিতে পারে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দিলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা গ্রহণ করেননি। ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তাদের কৌশলগত পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো বাধ্যতামূলক সীমাবদ্ধতা নেই।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দুই দেশকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি কয়েক দশকের মধ্যে পরমাণু হুমকির সর্বোচ্চ স্তর নির্দেশ করছে। গুতেরেসের ভাষ্য, “কৌশলগত নয় এমন পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধে দেখা গেছে। এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।”

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তি শেষ হওয়ায় উভয় দেশ আর কোনো সমান্তরাল ঘোষণার বাধ্যবাধকতার মধ্যে নেই। তবে তারা দাবি করেছে যে, রাশিয়া দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি পরিচালনা করবে, তবে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে তারা ‘নির্ণায়ক’ পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

নিচের টেবিলটি নিউ স্টার্ট চুক্তির মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরেছে:

বিষয়বিবরণসীমাবদ্ধতা শেষের পর অবস্থা
চুক্তির নামনিউ স্টার্ট (New START)কার্যকরতা হারিয়েছে
প্রযোজ্য দেশযুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াএকই
কৌশলগত নিকটবর্তী অস্ত্রICBM, SLBM, বোম্বার্ডিয়ারসীমাবদ্ধতা নেই
সর্বোচ্চ মোতায়েনযোগ্য ওয়ারহেডযুক্তরাষ্ট্র: 1,550, রাশিয়া: 1,550সীমা তুলে গেছে
চুক্তি মেয়াদ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্তমেয়াদ শেষ

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, চুক্তি শেষ হওয়ায় পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, উভয় পরাশক্তি যেন দিকনির্দেশিত কৌশল গ্রহণ করে এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়িয়ে চলে।

এই মুহূর্তে বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট—বিশেষ করে ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ন্যাটো সম্পর্ক—চুক্তি শেষ হওয়ার পর আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এখন দ্রুত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন আলোচনার সূচনা অত্যাবশ্যক।