৪৫তম বিসিএস: মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুপারিশপ্রাপ্তদের সনদ জমার নির্দেশ

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ৪৫তম ব্যাচের নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সাময়িকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের তাদের স্বপক্ষীয় দাবির সমর্থনে প্রয়োজনীয় মূল সনদ ও সহায়ক রেকর্ডপত্র জমা দিতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং কোটার সঠিকতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির মূল নির্দেশনা ও সময়সীমা

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২২-এর মাধ্যমে ক্যাডার পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যেসকল প্রার্থী সাময়িকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত নির্ধারিত ছক যথাযথভাবে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট সকল সনদ ও রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে।

জমাদানের পদ্ধতি ও সময়সীমা:

সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের আগামী ২ মার্চ, ২০২৬ তারিখের মধ্যে তাদের কাগজপত্র ডাকযোগে অথবা সশরীরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর প্রাপ্ত কোনো আবেদন বা নথি গ্রহণযোগ্য হবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে।

৪৫তম বিসিএসের ফলাফল ও পদের পরিসংখ্যান

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত বছরের ২৭ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে পিএসসি। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ১ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। সরকারি চাকরিতে মেধা ও কোটার ভারসাম্য রক্ষা এবং যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে পিএসসির এই ফলাফল ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

নিচে ৪৫তম বিসিএস সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের রূপরেখা প্রদান করা হলো:

বিষয়তথ্য ও পরিসংখ্যান
বিজ্ঞপ্তির ধরণক্যাডার পদে নিয়োগের চূড়ান্ত যাচাই
টার্গেট গ্রুপমুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীগণ
মোট সুপারিশপ্রাপ্ত সংখ্যা১,৮০৭ জন (সকল ক্যাডার মিলে)
কাগজপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ২ মার্চ, ২০২৬
জমার স্থানজনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (সংশ্লিষ্ট শাখা)
চূড়ান্ত ফল প্রকাশের তারিখ২৭ নভেম্বর, ২০২৫

যাচাই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের অত্যন্ত কঠোর নীতিমালা বিদ্যমান। এক্ষেত্রে প্রার্থীর দাখিলকৃত সনদটি প্রকৃত কি না এবং তিনি প্রকৃতই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য কি না, তা যাচাইয়ের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যভাণ্ডারের সহায়তা নেওয়া হবে। সাধারণত এ ধরনের যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর পিতা বা পিতামহের মুক্তিযোদ্ধা সনদ, গেজেট নম্বর, লাল মুক্তিবার্তা নম্বর এবং প্রার্থীর সাথে তাদের সম্পর্কের প্রমাণস্বরূপ প্রয়োজনীয় দলিল জমা দিতে হয়।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিসিএস ক্যাডার হিসেবে যোগদানের আগে এই ধরনের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি। এটি একদিকে যেমন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরিদের অধিকার নিশ্চিত করে, অন্যদিকে ভুয়া সনদে চাকরি পাওয়ার মতো জালিয়াতি রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

সুপারিশপ্রাপ্তদের করণীয়

সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নির্ধারিত ছকটি ডাউনলোড করে নির্ভুলভাবে পূরণ করেন। একই সাথে প্রয়োজনীয় সকল সনদের একাধিক কপি সত্যায়িত করে প্রস্তুত রাখেন। ডাকযোগে পাঠানোর ক্ষেত্রে ‘রেজিস্ট্রার্ড ডাক’ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে নথিপত্র প্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়া যায়।

৪৫তম বিসিএসের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন রক্ত সঞ্চার হবে এবং সিভিল সার্ভিসের পেশাদারিত্ব আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পিএসসি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।