২০২৫ সালও বিশ্বজুড়ে সংকট, সংঘাত ও সহিংসতার ছাপ রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ, আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ এশিয়া—প্রত্যেক অঞ্চলে যুদ্ধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ঘটনা ঘটেছে। চরম মানবিক সংকট, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে মানুষ জীবনযাত্রার মৌলিক স্বাচ্ছন্দ্য হারিয়েছে।
গাজার বাসিন্দাদের পরিস্থিতি এখনও মারাত্মক। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনিদের ওপর যে বর্বরতা শুরু হয়েছিল, তা ২০২৫ সালেও সম্পূর্ণ থেমে যায়নি। যদিও কিছু অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি হয়েছে, হামলা এখনো স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে গাজা সীমান্ত ছাড়িয়ে একের পর এক দেশই ইসরায়েলের আগ্রাসনের শিকার হয়েছে।
| দেশ | সংঘাতের ধরন | প্রধান ঘটনার বিবরণ | পরিস্থিতি ২০২৫ সাল |
|---|---|---|---|
| ইরান | সামরিক সংঘাত | তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্ততায় সাময়িক থেমেছে | বড় যুদ্ধ এড়ানো গেছে |
| লেবানন | সীমান্ত সংঘাত | হিজবুল্লাহ’র সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হলেও তেলআবিব হামলা চালিয়েছে | সীমিত আক্রমণ অব্যাহত |
| সিরিয়া | অভ্যন্তরীণ সংঘাত | বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই | অশান্ত অবস্থা |
| ইয়েমেন | গৃহযুদ্ধ | ক্ষমতা দখলের লড়াই অব্যাহত | নৃশংসতা বৃদ্ধি |
ইউরোপে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত ২০২৫ সালেও থেমে যায়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ হিসেবে এটি রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্ততায় বিভিন্ন দফায় বৈঠক হলেও স্থায়ী শান্তি এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
আফ্রিকায় গৃহযুদ্ধ ও জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতায় লক্ষাধিক মানুষের জীবন প্রভাবিত হয়েছে। সুদানের গৃহযুদ্ধ তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলেছে, কঙ্গোর উত্তরাঞ্চলে ক্ষমতার লড়াই চরম ভয়াবহতা সৃষ্টি করেছে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো—নাইজার, মালি, বুরকিনা ফাসো—ও বছরব্যাপী জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়াতেও সংঘাত থামেনি। ভারত ও পাকিস্তানের চার দিনের যুদ্ধ সাময়িক শান্তি এনে দিলেও উত্তেজনা রয়েছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমান্তে একাধিকবার সংঘাত ঘটেছে। মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়াতেও সীমান্ত সংঘাত এবং গৃহযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে বিশ্ব ২০২৫ সালে উত্তাল হয়েছে। গ্লোবাল প্রোটেস্ট ট্র্যাকার অনুযায়ী, দুর্নীতি, স্বৈরতন্ত্র ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অন্তত ৭০টি দেশে প্রতিবাদ হয়েছে। এর মধ্যে নেপাল ও বুলগেরিয়াসহ একাধিক দেশে সরকার পতন ঘটেছে।
বিশ্ব অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়েছে মার্কিন শুল্ক-যুদ্ধ ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নতুন শুল্ক আরোপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগও বিশ্বজুড়ে কাঁপন সৃষ্টি করেছে। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ভূমিকম্প, দাবানল, ঝড়-বন্যার কবলে পড়েছে, যা লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে।
২০২৫ সাল তাই বিশ্ব ইতিহাসে অস্থিরতা, সংঘাত ও মানবিক সংকটের আরেকটি বছরের দাগ রেখে গেল, যা প্রমাণ করে শান্তি, নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রতি এখনো মানুষের সংগ্রাম চলমান।
