নির্বাচনের সময় মোবাইল ব্যাংকিং ও আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক সকল বাণিজ্যিক ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে যাতে নির্বাচনকালীন সরকারি ছুটির চারদিনে প্রতিটি এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে, এই সময়ে কোনো সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের সময়ও বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের মতো ইউটিলিটি বিল পরিশোধ সেবা স্বাভাবিকভাবে চলবে। তবে ব্যাংক থেকে ব্যাংকে তাৎক্ষণিক অর্থ স্থানান্তর বা ইন্টারব্যাংক ইনস্ট্যান্ট ট্রান্সফার (IBFT) সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে, যাতে নির্বাচনের সময়ে অর্থের অপব্যবহার রোধ করা যায়। এর আওতায় ব্যক্তিগত হিসাব থেকে ব্যক্তিগত হিসাব (P2P) লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১, বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যক্তিগত হিসাবের লেনদেন সীমিত থাকবে।

নিচের টেবিলে নির্বাচনের সময় বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবার সীমাবদ্ধতা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

সেবাপ্রযোজ্য সময়সীমাবদ্ধতালক্ষ্য
এমএফএস (মোবাইল ব্যাংকিং)৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা – ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১:৫৯ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন সীমিতঅর্থের অপব্যবহার রোধ
ইন্টারনেট ব্যাংকিংএকই সময়সীমাP2P লেনদেন সীমিতনির্বাচনকালীন আর্থিক নিরাপত্তা
এটিএম বুথনির্বাচনকালীন চার দিনপর্যাপ্ত নগদ রাখা বাধ্যতামূলকনগদ তহবিল নিশ্চিত করা
ইউটিলিটি বিল পেমেন্টচার দিনের ছুটিস্বাভাবিক চলমানজনসাধারণের অসুবিধা এড়ানো
ইন্টারব্যাংক ইনস্ট্যান্ট ট্রান্সফারছুটির সময়সাময়িক বন্ধআর্থিক নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নির্দেশনাগুলো গ্রাহকদের জরুরি লেনদেনে কোনো সমস্যা না হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনের সময় অর্থের অপব্যবহার রোধ করতে নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে যে, নির্বাচনের চারদিনের সরকারি ছুটির সময় প্রতিটি এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এই ব্যবস্থা নির্বাচনকালীন আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।