বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
ঘটনাটি মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিলটি ইস্যু করা হয়। বিল হাতে পাওয়ার পর এতে উল্লেখ করা অঙ্ক দেখে স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত হন গ্রাহক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কারণ, আবাসিক এই সংযোগে এক মাসে ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ ছিল মাত্র ২৩৫ ইউনিট।
বিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫ ইউনিট। এর আগে ৮ আগস্ট রিডিং ছিল ১৬০ ইউনিট। অর্থাৎ দুই রিডিংয়ের ব্যবধান ২৩৫ ইউনিট। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। কিন্তু গ্রাহকের হাতে পৌঁছানো বিলে কয়েকশ কোটি টাকার হিসাব যুক্ত হয়ে যায়।
বিলে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিলের মোট অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।
শুধু তাই নয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ গ্রাহককে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা পরিশোধ করতে হতো বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিপরীতে ২৩৫ ইউনিট ব্যবহারের প্রকৃত বিল বিলম্ব মাশুলসহ হওয়ার কথা মাত্র ২ হাজার ৫৬ টাকা।
ঘটনার অস্বাভাবিকতা বোঝাতে বিলের বিভিন্ন তথ্য পাশাপাশি রাখলে ব্যবধানটি আরও স্পষ্ট হয়।
| বিলের বিষয় | উল্লেখিত পরিমাণ |
|---|---|
| পূর্ববর্তী মিটার রিডিং | ১৬০ ইউনিট |
| বর্তমান মিটার রিডিং | ৩৯৫ ইউনিট |
| এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার | ২৩৫ ইউনিট |
| প্রকৃত বিল | ১,৯৬৩ টাকা |
| বিলম্ব মাশুলসহ প্রকৃত বিল | ২,০৫৬ টাকা |
| ডিমান্ড চার্জ | ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা |
| ভ্যাট | ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা |
| মিটার ভাড়া | ১০ টাকা |
| ইস্যু করা মোট বিল | ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা |
| বিলম্ব মাশুলসহ উল্লেখিত বিল | ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা |
বিলটি ইস্যু করা হয় ১০ সেপ্টেম্বর। গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে সেখানে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ করা হয়েছে। বিল পরিশোধের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৯ সেপ্টেম্বর।
এমন অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি সামনে আসার পর বিদ্যুৎ বিভাগের নজরে আসে। পরে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএমকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এ ঘটনায় তিনি গ্রাহকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
আলেয়া খাতুন বলেন, ‘এটা শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনার কারণে আমাদের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে। এ ধরনের ভুলের প্রতিকার চাই।’
একটি আবাসিক সংযোগে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে কয়েকশ কোটি টাকার বিল তৈরি হওয়ায় হিসাব প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বিলের সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে দেখানো ডিমান্ড চার্জ কীভাবে এত বিপুল অঙ্কে পৌঁছাল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাখ্যার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
গ্রাহকের জন্য বিদ্যুৎ বিল শুধু মাসিক ব্যবহারের হিসাব নয়; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ-সংক্রান্ত জটিলতার আশঙ্কাও থাকে। ফলে বিলের হিসাবে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা দিলে দ্রুত যাচাই ও সংশোধন করা জরুরি। মাগুরার এই ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অস্বাভাবিক অঙ্কটি কীভাবে তৈরি হলো, সেই প্রশ্নেরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে এত বড় ডিমান্ড চার্জ কীভাবে বিলে যুক্ত হয়েছিল, তার কারিগরি কারণ বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি। ফলে পুরো ঘটনার দায় নির্ধারণ ও হিসাবের ত্রুটির উৎস চিহ্নিত করার বিষয়টি পরবর্তী তদন্ত বা প্রশাসনিক পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করছে।









