খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই মে ২০২৬, ১১:৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন একদল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের জন্য নির্ধারিত ১৬টি স্টেডিয়ামের মধ্যে ১৪টিতেই খেলোয়াড়দের জন্য উচ্চ তাপমাত্রাজনিত ঝুঁকি বিদ্যমান। বিশেষ করে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গবেষক দলটির মতে, শুধুমাত্র উচ্চ তাপমাত্রাই নয়, আর্দ্রতা, সূর্যের তীব্রতা এবং বাতাসের গতি—এই তিনটি উপাদান মিলিয়ে খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এসব পরিবেশগত উপাদান একত্রে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে, যা মাঠে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন, পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ক্লাব বিশ্বকাপের সময়ও একই ধরনের আবহাওয়াজনিত চ্যালেঞ্জ দেখা গিয়েছিল। আসন্ন বিশ্বকাপে দক্ষিণাঞ্চলীয় ভেন্যুগুলোতে গড় তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও কিছু কিছু দিনে তা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
চরম আবহাওয়া মোকাবেলায় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধে বাধ্যতামূলকভাবে তিন মিনিটের ‘কুলিং ব্রেক’ রাখা হবে। পাশাপাশি খেলোয়াড় ও টেকনিক্যাল স্টাফদের জন্য জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত বেঞ্চের ব্যবস্থাও থাকবে। তাপমাত্রা পরিমাপের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ওয়েট বাল্ব গ্লোব টেম্পারেচার’ সূচক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার সম্মিলিত প্রভাব নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
তবে ২০ সদস্যের এই আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী দল মনে করছে, ফিফার নেওয়া এসব ব্যবস্থা খেলোয়াড়দের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, মাঠে তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে ম্যাচ স্থগিত বা পুনঃনির্ধারণের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
এছাড়া কুলিং ব্রেকের সময়সীমা বর্তমান তিন মিনিট থেকে বাড়িয়ে অন্তত ছয় মিনিট করারও সুপারিশ করেছে গবেষকরা। তাদের মতে, এই সময়সীমা বাড়ানো হলে খেলোয়াড়রা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকরভাবে পুনরুদ্ধার করতে পারবে।
বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও উচ্চমাত্রার প্রতিযোগিতায় আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি শুধু খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য নয়, ম্যাচের গতি ও মানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে ম্যাচ পরিচালনা করলে শারীরিক ক্লান্তি ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে, যা প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
২০২৬ বিশ্বকাপে তিনটি ভিন্ন দেশের বিভিন্ন আবহাওয়াগত অঞ্চলে ম্যাচ আয়োজন করা হবে, যার মধ্যে কিছু ভেন্যুতে গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। ফলে এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আয়োজক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গবেষক দলটি মনে করে, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে আবহাওয়া-নির্ভর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যাতে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও প্রতিযোগিতার মান দুটোই সুরক্ষিত থাকে।
মন্তব্য