,

১৫ হাজার রান ও ৫৫তম সেঞ্চুরিতে কোহলির রেকর্ডের রাত

তিরুঅনন্তপুরমের গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রবিবারের রাতটা যেন বিরাট কোহলির নামেই লেখা ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৯৫ রানের সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে ভারত যখন জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন একের পর এক ব্যক্তিগত মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ১৫ হাজার ওয়ানডে রান পূর্ণ করার পর একই ইনিংসে তুলে নিলেন নিজের ৫৫তম শতক। তাঁর সঙ্গে শুবমান গিলের সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আট উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২৯৬ রানের লক্ষ্য ভারতের সামনে খুব একটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়নি। ৪১.৪ ওভারে ৩০০ রান তুলে মাত্র দুই উইকেট হারিয়েই জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। তবে স্কোরকার্ডের সংখ্যার চেয়েও বড় হয়ে থাকল কোহলির ব্যক্তিগত অর্জনগুলো।

আলজারি জোসেফের বলে মিডউইকেটের দিকে দারুণ পুল শটে বাউন্ডারি মেরে ওয়ানডেতে ১৫ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেন কোহলি। পুরুষদের ওয়ানডে ক্রিকেটে শচীন টেন্ডুলকারের পর তিনিই দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে এই মাইলফলকে পৌঁছালেন। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয়, কোহলি মাত্র ৩০৩ ইনিংসে ১৫ হাজার রান পূর্ণ করেছেন। টেন্ডুলকারের এই মাইলফলকে পৌঁছাতে লেগেছিল ৩৭৭ ইনিংস। ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার—এই পুরো পথেই দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন কোহলি।

১৫ হাজার রানে থামেননি তিনি। মাত্র ৭৪ বলে শতরান পূর্ণ করে শেষ পর্যন্ত ৮৮ বলে ১৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ইনিংসটি সাজানো ছিল ১০টি চার ও ৯টি ছক্কায়। তাঁর নয়টি ছক্কা এক ইনিংসে কোহলির ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ছক্কার সংখ্যাও। শতরানটি ওয়ানডেতে তাঁর ৫৫তম এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০ম।

অন্য প্রান্তে অধিনায়ক শুবমান গিলও কম যাননি। ১০৮ বলে ১১০ রান করেন তিনি, যেখানে ছিল ১৩টি চার ও একটি ছক্কা। এটি ওয়ানডেতে গিলের ১০ম শতক। রোহিত শর্মার সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ৭৪ রান যোগ করার পর দ্বিতীয় উইকেটে কোহলির সঙ্গে তাঁর জুটি দাঁড়ায় ১৫১ রানে। এই জুটিই কার্যত ভারতের জয় নিশ্চিত করে দেয়। রোহিত ৩২ রান করে ফিরে গেলেও গিল ও কোহলি রান তোলার গতি ধরে রাখেন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়াতে থাকেন।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসেও ছিল একটি শতরান। জাস্টিন গ্রিভস ১০১ রান করে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে নিজের প্রথম শতক তুলে নেন। জন ক্যাম্পবেল করেন ৬২ রান এবং আমির জাঙ্গু অপরাজিত থাকেন ৫৮ রানে। তবে ভারতের বোলারদের মধ্যে কুলদীপ যাদব সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন। তাঁর ৪০ রানে চার উইকেট নেওয়ার পারফরম্যান্স ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় সংগ্রহে পৌঁছাতে বাধা দেয়। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৯৫ রান সংগ্রহ করে ক্যারিবীয় দল।

কোহলির জন্য এই ম্যাচের আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো ওয়ানডে রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তাঁর অবস্থান। ২০২৫ সালের অক্টোবরে কুমার সাঙ্গাক্কারাকে পেছনে ফেলে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। সাঙ্গাক্কারার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৪,২৪৩ রান। তাঁর ওপরে এখন কেবল টেন্ডুলকার, যিনি ওয়ানডেতে ১৮,৪২৬ রান নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করেছিলেন।

ওয়ানডে শতকের তালিকাতেও কোহলি এখন অনেকটাই আলাদা উচ্চতায়। তাঁর ৫৫টি শতকের বিপরীতে টেন্ডুলকারের রয়েছে ৪৯টি এবং রোহিত শর্মার ৩৪টি। ২০২৩ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শতক করে টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড নিজের করে নিয়েছিলেন কোহলি। এবার সেই রেকর্ড আরও দূরে নিয়ে গেলেন তিনি।

এই ম্যাচটি ভারতের জন্য শুধু একটি বড় জয় নয়, কোহলির ক্যারিয়ারের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়ও হয়ে থাকল। ১৫ হাজার রানের মাইলফলক, ৫৫তম ওয়ানডে শতক, ১৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস এবং আট উইকেটের জয়—সব মিলিয়ে তিরুঅনন্তপুরমের রাতটি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য হয়ে থাকল রেকর্ড আর আধিপত্যের একসঙ্গে উদ্‌যাপন।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।