তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনের ভোটের সময়সীমা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ পহেলা বৈশাখের পূর্বেই এই দুই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসুদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
নির্বাচনের সময় নির্ধারণ ও আবহাওয়া বিবেচনা
বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনে স্থগিত হওয়া নির্বাচনের পুনঃতফসিল পরবর্তী ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ নিয়ে দেশজুড়ে কৌতূহল ছিল। নির্বাচন কমিশনার জানান, কমিশন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়। বিশেষ করে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে কালবৈশাখী ঝড় ও আকস্মিক বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে বিধায় পহেলা বৈশাখের আগেই ভোট শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এড়াতে এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসা নিশ্চিত করতে আমরা এপ্রিলের প্রথম ভাগকেই বেছে নিচ্ছি।”
পোস্টাল ব্যালট ও প্রবাসী ভোটাধিকার
নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পোস্টাল ব্যালট ব্যবহারের বিষয়ে কমিশন বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে ইতোমধ্যে পোস্টাল ব্যালট প্রেরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, বগুড়া-৬ আসনে প্রবাসীদের ভোট প্রদানের সুযোগ দিতে নতুন করে ব্যালট পেপার পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
| আসনের নাম | নির্বাচনের ধরণ | বর্তমান স্থিতি | বিশেষ ব্যবস্থা |
| বগুড়া-৬ | উপনির্বাচন | তফসিল পরবর্তী প্রস্তুতি | প্রবাসীদের জন্য নতুন পোস্টাল ব্যালট |
| শেরপুর-৩ | পুনঃতফসিল নির্বাচন | ভোটগ্রহণের তারিখ চূড়ান্তকরণ | পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ সম্পন্ন |
| সংরক্ষিত নারী আসন | সাধারণ নির্বাচন | দলীয় মনোনয়ন ও যাচাই-বাছাই | শপথের ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন |
সংরক্ষিত নারী আসন ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রসঙ্গে কমিশনার জানান, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো ইতোমধ্যে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের বিষয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে দলগুলো যাদের মনোনয়ন দেবে, মূলত তারাই নির্বাচিত হবেন।
এদিকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং মেয়র পদে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে এখনো কিছুটা ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিলের যে অধ্যাদেশ (অর্ডিন্যান্স) জারি করা হয়েছিল, তার ভবিষ্যৎ এখন জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সংসদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় কমিশন
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসুদ স্পষ্ট করেছেন যে, মেয়র পদে দলীয় প্রতীকের বিধান থাকবে কি না, তা নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে নির্ধারিত হবে। যদি সংসদ ওই অধ্যাদেশ অনুমোদন বা ‘রেটিফাই’ করে, তবে নির্বাচন হবে নির্দলীয় পদ্ধতিতে। আর যদি সংসদ আগের আইন বহাল রাখে, তবে দলীয় প্রতীকেই ভোট হবে। সংসদের এই সিদ্ধান্তের পরই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার পথে হাঁটবে কমিশন।
সামগ্রিকভাবে, নির্বাচন কমিশন এখন সংসদীয় কার্যক্রম এবং আবহাওয়া—উভয় দিক বিবেচনা করেই তাদের নির্বাচনী ক্যালেন্ডার সাজাচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই দুই আসনের ভোটের সুনির্দিষ্ট তারিখ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।









