ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকায় অবস্থিত ‘তোহফাতুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসা’র একটি কক্ষে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই কক্ষে ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল বারী। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
ঘটনা গোপন রাখার চেষ্টার অভিযোগ
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসা ঠেকাতে অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহর মাধ্যমে ভুক্তভোগী ছাত্রীর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর মেয়েটিকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদ্রাসার ভেতরে আটকে রাখা হয়। কাউকে ঘটনা জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে মাদ্রাসার রান্নাবান্নার কাজে সহায়তাকারী এক নারীর সহযোগিতায় সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হয় মেয়েটি। বাড়িতে ফিরে সে তার দাদাকে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। পরে পরিবারের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষুব্ধ জনতার ঘেরাও, ভাঙচুর ও লুটপাট
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা মাদ্রাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বাসভবন ঘেরাও করেন। এ সময় আব্দুল বারীর স্ত্রী ও তাঁর ছেলেকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের কাজে বাধা দেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাদ্রাসা ও শিক্ষকের বাসভবনের দুটি কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে তোহফাতুল জান্নাহ ও তাঁর ছোট ছেলেকেও উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এলাকায় নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
অন্য ছাত্রীদের নিয়েও উঠেছে অভিযোগ
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান অন্য কয়েকজন ছাত্রীর বরাত দিয়ে অভিযোগ করেছেন, আব্দুল বারীর স্ত্রী নিজের শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে মাদ্রাসার ছাত্রীদের তাঁর স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দিতেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগটির সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাদার দায়ের করা মামলায় তোহফাতুল জান্নাহকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল বারীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনায় তাঁর স্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে এমন গুরুতর অভিযোগ স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো অভিযোগ উঠলে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুর পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। মামলার অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।








