অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র, সাবেক ব্যাটসম্যান ডেমিয়েন মার্টিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি কৃত্রিম কোমায় রয়েছেন। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ৫৪ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার মেনিনজাইটিস-এ আক্রান্ত হয়েছেন। মেনিনজাইটিস হলো মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডকে ঘিরে থাকা ঝিল্লির প্রদাহ, যা সময়মতো চিকিৎসা না করলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, মার্টিন বক্সিং ডে-এর দিন হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে কৃত্রিম কোমায় রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু অ্যাডাম গিলক্রিস্ট সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, “ডেমিয়েন সেরা চিকিৎসা পাচ্ছেন। তার পরিবার জানে, দেশ ও বিশ্বের মানুষ তাদের জন্য প্রার্থনা করছে। আমাদের ভালোবাসা ও শুভকামনা তার সঙ্গে আছে।” সাবেক কোচ ড্যারেন লেহমানও বার্তায় জানিয়েছেন, “অনেক ভালোবাসা ও প্রার্থনা। শক্ত থাকো, লড়াই চালিয়ে যাও কিংবদন্তি। পরিবারের প্রতি আমাদের ভালোবাসা।”
ডেমিয়েন মার্টিন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা স্ট্রোকমেকার হিসেবে খ্যাত। তিনি স্টিভ ওয়াহর নেতৃত্বাধীন দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অর্জনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৬৭টি টেস্ট ম্যাচ এবং ২০৮টি ওয়ানডে খেলা। টেস্টে তার গড় রান ৪৬.৩৭, এবং তিনি করেছেন ১৩টি সেঞ্চুরি।
বিশেষ স্মরণীয় তার ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল, যেখানে ভারতকে হারিয়ে অপরাজিত ৮৮ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বজয়ী করেছিলেন। সেই ম্যাচে তিনি রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন ম্যাচজেতানো জুটি। ২০০৬ সালের অ্যাশেজ সিরিজের পরে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। খেলোয়াড়ি জীবনের পর তিনি কিছু সময় ধারাভাষ্যে কাজ করেছেন, তবে পরবর্তীতে গণমাধ্যম ও জনসমক্ষে নিজেকে অনেকটা আড়ালে রেখেছেন।
ডেমিয়েন মার্টিনের ক্রিকেট জীবন সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
| বিভাগ | তথ্য / সংখ্যা |
|---|---|
| বয়স | ৫৪ বছর |
| টেস্ট ম্যাচ | ৬৭ |
| ওয়ানডে ম্যাচ | ২০৮ |
| টেস্ট সেঞ্চুরি | ১৩ |
| টেস্ট গড় | ৪৬.৩৭ |
| বিশ্বকাপ জয় | ২০০৩ (ওয়ানডে) |
| গুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল রান | ৮৮* (অপরাজিত) |
| আন্তর্জাতিক অবসর | ২০০৬ (অ্যাশেজ সিরিজ) |
বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটপ্রেমীরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। তার পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীরা এই কঠিন সময়ে পাশে আছেন, এবং হাসপাতালের চিকিৎসক দল প্রতিনিয়ত তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নজরদারি করছেন। আশা করা হচ্ছে, চিকিৎসা ও প্রার্থনার মাধ্যমে তিনি শীঘ্রই সুস্থ হয়ে ফিরবেন।
