দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হওয়ায় চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ রোগ ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯৯ জনে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত বা শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৩৬ জন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৯৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০০ জন। আর ৮৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর প্রায় ১০ শতাংশ নিশ্চিত হামে এবং প্রায় ৯০ শতাংশ হামের উপসর্গ নিয়ে ঘটেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন করে ১ হাজার ২৩৬ জনের আক্রান্ত বা শনাক্ত হওয়ার তথ্য পরিস্থিতির উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনের হিসাবে ওঠানামা করলেও নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার ধারাবাহিকতা বলছে, দেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া মানুষের চাপ এখনো রয়েছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণ থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এ রোগের পরিচিত লক্ষণ। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি।
হামে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে শুধু ফুসকুড়ি দেখা দেওয়াই নয়, রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু অপুষ্টিতে ভুগলে বা তার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে অসুস্থতা জটিল আকার নেওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর তুলনায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। তবে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের মৃত্যু—তা পরিসংখ্যান থেকেই বলা যায় না। এ কারণে রোগ শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং মৃত্যুর কারণ যথাযথভাবে নিরূপণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
চলমান পরিস্থিতিতে শিশুদের হাম প্রতিরোধে টিকাদানের বিষয়টিও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। হাম প্রতিরোধে টিকা কার্যকর সুরক্ষা দেয়। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা রাখা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের জন্যও এ পরিস্থিতি বাড়তি চাপ তৈরি করছে। নতুন রোগী শনাক্তের পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাম ও হামের উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, রোগীদের তথ্য সংরক্ষণ এবং মৃত্যুর কারণ আলাদাভাবে নথিভুক্ত করা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৯৯ জনের মৃত্যু এবং এক দিনে আরও ১ হাজার ২৩৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য দেখাচ্ছে, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাবে, ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যু ৯৯৯ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৮৯৯ জন। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৩৬ জন আক্রান্ত বা শনাক্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর তথ্য পর্যবেক্ষণ এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।










