জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

হামে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, উদ্বেগ বাড়ছে দেশজুড়ে

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব থামার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১১০ দিনে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২৯ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মৃতদের মধ্যে ৬৩৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩ শিশু।

শুক্রবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই পরিসংখ্যান বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে দুইজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। এ ছাড়া ঢাকা, রংপুর এবং সিলেট বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে মৃত্যুর এই ঘটনা প্রমাণ করছে, সংক্রমণ এখনো দেশের একাধিক অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে এবং শিশুদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে আছে।

একই সময়ে সারা দেশে হামের সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে নতুন করে ৯৬৮ জনের তথ্য নিবন্ধিত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮৫১ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিভাগভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে ৩০১ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮১ জন, বরিশাল বিভাগে ১৩৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ৮৭ জন। অন্য বিভাগগুলোতেও নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। যদিও একই ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ৭৮৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে, তবুও নতুন রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা স্বাস্থ্য খাতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হামের রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। গত ১১০ দিনে দেশে মোট হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬১ জন। এর মধ্যে ৮৭ হাজার ২৬২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৪২৫ জনের শরীরে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৩ হাজার ৫৪৩ জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা, জ্বর বা শরীরে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যেসব শিশু এখনো পূর্ণাঙ্গ টিকাসেবা পায়নি, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের স্বাস্থ্যগত পরিবর্তনের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর