দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় নিজ শয়নকক্ষ থেকে সিমি আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। আজ রবিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত সাতকুড়ি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। জনবহুল এলাকাটিতে দিনের শুরুতেই এমন একটি মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের সৃষ্টি হয়।
Table of Contents
ঘটনার বিবরণ ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট
নিহত সিমি আক্তার ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা রবিনের স্ত্রী ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে রবিন বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছেন। বাড়িতে সিমি আক্তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বসবাস করতেন। রবিবার সকালে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও শয়নকক্ষের দরজা না খোলায় এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। পরবর্তীতে তারা ঘরের ভেতরে সিমির নিথর দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং তৎক্ষণাৎ স্থানীয় থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়। স্বামী প্রবাসে বা কর্মস্থল দূরে থাকার কারণে একাকীত্ব কিংবা কোনো পারিবারিক মনোমালিন্য এই ঘটনার পেছনে কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ ও তথ্য উপাত্ত
ঘটনার মূল বিষয়গুলো পর্যালোচনার সুবিধার্থে নিচে একটি সারণি প্রদান করা হলো:
| তথ্যের বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ |
| নিহতের নাম | সিমি আক্তার |
| বয়স | ২৭ বছর |
| স্বামীর নাম | রবিন (ঢাকায় কর্মরত) |
| ঘটনাস্থল | সাতকুড়ি গ্রাম, খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়ন, হাকিমপুর |
| উদ্ধারের সময় | রবিবার সকাল ৯:৩০ মিনিট |
| প্রাথমিক অবস্থা | নিজ শয়নকক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার |
| বর্তমান অবস্থান | মরদেহ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে |
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত প্রক্রিয়া
হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সিমি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে নারাজ প্রশাসন।
ওসি নাজমুল হক আরও বলেন, “আমরা মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছি। এটি নিছক আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা প্ররোচনা রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে।”
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক উদ্বেগ
সাতকুড়ি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সিমি আক্তার শান্ত স্বভাবের ছিলেন। তার স্বামী রবিন ঢাকায় থাকায় তিনি অনেকটা সময় সন্তানদের নিয়ে নিজের মতো থাকতেন। হঠাৎ কেন তাকে আত্মহননের পথ বেছে নিতে হলো, তা নিয়ে প্রতিবেশীরা বিস্মিত। অনেকে মনে করছেন, দাম্পত্য কলহ বা মানসিক বিষণ্নতা এই চরম সিদ্ধান্তের কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামাঞ্চলে গৃহবধূদের আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সমাজবিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে স্বামীরা দূরে কর্মরত থাকলে নারীদের ওপর যে মানসিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি হয়, তা অনেক ক্ষেত্রে সহনশীলতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। সিমি আক্তারের মৃত্যুর পর তার পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে। রবিনের ঢাকায় অবস্থান করার কারণে পরিবারের সদস্যরা তাকে খবর দিয়েছেন এবং তিনি দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। যদি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়, তবে সে অনুযায়ী নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। আপাতত পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে দেখছে।
