হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় ইরানকে লক্ষ্য করে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও ইরান কৌশলী আচরণ বা ‘চালাকি’ করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের অবস্থান মেনে নেবে না এবং প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোলেও তেহরান একই সঙ্গে চাপ সৃষ্টির কৌশল অবলম্বন করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিকে তিনি একটি ‘পুরনো কৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা ইরান দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছে।
ট্রাম্প বলেন, “আমাদের মধ্যে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে, তবে ইরান কিছুটা বাড়াবাড়ি রকমের চালাকি করছে। তারা গত প্রায় ৪৭ বছর ধরেই এমন আচরণ করে আসছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু এভাবে আমাদের ব্ল্যাকমেইল করা যাবে না।”
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এই প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
নিচে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অবস্থান | পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল |
| বৈশ্বিক তেল পরিবহন | প্রায় ২০% তেল এই পথে পরিবাহিত |
| প্রধান সংশ্লিষ্ট দেশ | ইরান, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত |
| কৌশলগত গুরুত্ব | বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট |
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনায় থাকলেও তাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের কর্মকাণ্ডের কারণে অতীতে বহু মার্কিন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে একটি গুরুতর বিষয়।
তার ভাষায়, “আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি, তবে আমাদের অবস্থান খুবই কঠোর। তারা বহু মানুষকে হত্যা করেছে, আমাদের অনেক নাগরিক তাদের কারণে প্রাণ হারিয়েছে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পেছনে এই ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা একটি বড় ভূমিকা রাখছে।
এদিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বিষয়ে দিনের শেষ নাগাদ আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এতে করে কূটনৈতিক অগ্রগতি বা সম্ভাব্য সমঝোতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা—সবকিছুই এখন এই পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের কূটনৈতিক তৎপরতা ও উভয় পক্ষের অবস্থানের ওপর।
