পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ভয়াবহ নৌ-অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার মহাপরিচালকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় এক হাজার পাঁচশত বাণিজ্যিক জাহাজ এবং প্রায় বিশ হাজার নাবিক কার্যত সেখানে আটকা পড়ে আছেন। এই পরিস্থিতি বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
জাতিসংঘের অধীন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ বৃহস্পতিবার পানামায় অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকা মহাদেশের সামুদ্রিক সম্মেলনে’ এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে মারাত্মক চাপ তৈরি হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর তেহরান কৌশলগত এই জলপথে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল ও পণ্যবাহী জাহাজের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বিশ্বজুড়ে মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়েই সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে অপরিশোধিত তেল, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য অন্যতম।
ডোমিঙ্গেজ বলেন, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ নাবিকরা, যারা সম্পূর্ণ মানবিক ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে তারা এখন দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজে আটকে আছেন, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকেই চাপের মুখে ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির মতো সংকীর্ণ ও কৌশলগত জলপথে দীর্ঘ সময় অবরোধ থাকলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার ঝুঁকি থাকে।
বর্তমান পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত চিত্র
| বিষয় | পরিমাণ / অবস্থা |
|---|---|
| আটকা পড়া জাহাজ | প্রায় ১,৫০০টি |
| আটকা পড়া নাবিক | প্রায় ২০,০০০ জন |
| প্রভাবিত জলপথ | হরমুজ প্রণালি |
| প্রভাবিত খাত | তেল, গ্যাস ও পণ্য পরিবহন |
| মূল কারণ | আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা ও অবরোধ |
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি নিরাপদ করিডর চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত সংকট নিরসনের কোনো নির্দিষ্ট অগ্রগতি দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে এই পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি নির্ভর দেশগুলো ইতোমধ্যে বিকল্প সরবরাহ পথ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।
