আর্জেন্টিনা ফুটবলের ধারাবাহিক সাফল্যের গল্পে এবার যোগ হলো এক নতুন হতাশার অধ্যায়। সিনিয়র স্তরে বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশটির ফুটবলে যে আত্মবিশ্বাসের ঢেউ তৈরি হয়েছে, তা অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়েও প্রতিফলিত হয়েছিল। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম, তিউনিসিয়া ও ফিজিকে হারিয়ে আর্জেন্টাইনের যুবারা দেখিয়েছিল দুর্দান্ত আগ্রাসন ও শৈল্পিক ফুটবল। বিশেষ করে ফিজির বিপক্ষে ৭–০ গোলের জয়ে দলটি নিজেদের অন্যতম শিরোপা দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
তবে নকআউট পর্ব সবসময়ই ভিন্ন বাস্তবতা। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি শুরু হয় আর্জেন্টিনার প্রত্যাশিত আধিপত্য দিয়েই। রামিরো তুলিয়ানের দ্রুত গোল স্কোরলাইনে লিড এনে দেয়। কিন্তু ম্যাচের ধারায় পরিবর্তন আসে ধীরে ধীরে মেক্সিকোর কৌশলী প্রতিআক্রমণে। লুইস গাম্বোয়া তার দক্ষতা ও ঠাণ্ডা মাথার খেলা দিয়ে আর্জেন্টাইন রক্ষণ ভেঙে দুটি গোল করেন। শেষ মুহূর্তে ফার্নান্দো ক্লোস্টারের সমতাসূচক গোল আর্জেন্টিনাকে ফেরানোর চেষ্টা করলেও ভাগ্য ছিল না তাদের পক্ষে। টাইব্রেকারে গোলরক্ষকের দুইটি দুর্দান্ত সেভই আর্জেন্টিনাকে বিদায় উপহার দেয়। মেক্সিকো এখন শেষ ষোলোতে খেলবে পর্তুগালের বিপক্ষে, যেখানে তাদের নতুন করে লড়াই শুরুর চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
ব্রাজিল-প্যারাগুয়ে ম্যাচটি যেন ‘সংঘর্ষে টিকে থাকার’ গল্প। মাত্র অষ্টম মিনিটেই ভিতর হুগোর লাল কার্ড ব্রাজিলকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে। কিন্তু ১০ জন নিয়ে খেলেও ব্রাজিল যুব দলের শৃঙ্খলা, মানসিক দৃঢ়তা ও কোচিং পরিকল্পনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্যারাগুয়ে একাধিক আক্রমণ গড়লেও ব্রাজিলের সংগঠিত রক্ষণ ব্যূহ তাদের গোলবঞ্চিত রাখে। নির্ধারিত সময় ০–০ ফলে শেষ হলে টাইব্রেকারে ৫–৪ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় সেলেসাও যুবারা। আগামী ১৮ নভেম্বর ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা, যা নিঃসন্দেহে হবে টুর্নামেন্টের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা।
