সোনালী ব্যাংকের মাইলফলক: হলমার্কের বকেয়াসহ দেড় হাজার কোটি মুনাফা

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক পিএলসি তাদের আর্থিক সক্ষমতা ও খেলাপি ঋণ আদায়ে নজিরবিহীন সাফল্যের এক খতিয়ান পেশ করেছে। গত এক বছরে ব্যাংকটি বিভিন্ন শীর্ষ ঋণখেলাপির কাছ থেকে নগদে ১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, যার মধ্যে বহুল আলোচিত হলমার্ক গ্রুপের কাছ থেকে আদায় করা ৩০০ কোটি টাকা অন্যতম। মঙ্গলবার রাজধানীর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শওকত আলী খান এই অভাবনীয় অর্জনের তথ্য তুলে ধরেন।

আর্থিক স্থিতিশীলতা ও লাভের খতিয়ান

২০২৪ সালে সোনালী ব্যাংক ৮ হাজার ১৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বিশাল পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে, যা আগের বছরের ৫ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আশা করছে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি ও কর পরিশোধের পর ব্যাংকটির প্রকৃত নিট মুনাফা ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। দীর্ঘকাল ধরে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর অন্যতম প্রধান সমস্যা ‘মূলধন ঘাটতি’ থেকেও সোনালী ব্যাংক এখন পুরোপুরি মুক্ত।

ব্যাংকটির বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

প্রধান সূচকসমূহ২০২৪ সালের অবস্থালক্ষ্যমাত্রা ও মন্তব্য
পরিচালন মুনাফা৮,০১৭.৩৫ কোটি টাকারেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্জিত।
প্রকৃত মুনাফা (সম্ভাব্য)১,৫০০ কোটি টাকা +বছর শেষে প্রত্যাশিত নিট লাভ।
খেলাপি ঋণ আদায়১,২০৩ কোটি টাকাশীর্ষ ২০ জন থেকে ৭৪৫ কোটি।
খেলাপি ঋণের হার১৫.৪ শতাংশ২০২৭ সালের মধ্যে ১০%-এর নিচে।
মূলধন ঘাটতিনেই (০)আর্থিক ভিত্তি এখন সুসংহত।

হলমার্ক ইস্যু ও অনাদায়ী পাওনা

হলমার্ক গ্রুপের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা নগদ আদায় করার পর ব্যাংকটি এখন তাদের বন্ধক রাখা যন্ত্রপাতি ও স্থাবর সম্পদ নিলামে বিক্রির জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এর বাইরেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্পের একক ঋণপত্র (LC) পরিচালনার মাশুল বাবদ সরকারের কাছে ব্যাংকটির পাওনা রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই বকেয়া অর্থ আদায় হলে ব্যাংকের মূলধন কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে এমডি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঝুঁকি মোকাবিলা ও গ্রাহক আস্থা

ঋণ ঝুঁকি কমাতে ব্যাংকটি নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ব্যাংকের মোট ঋণের প্রায় ৩৭ শতাংশ মাত্র পাঁচটি শাখায় কেন্দ্রীভূত। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, এই শাখাগুলোতে বড় ঋণ বিতরণ বন্ধ রেখে অন্যান্য শাখায় ঋণ প্রবাহ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমডি শওকত আলী খান দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, হলমার্ক পরবর্তী সময়ে ব্যাংকে আর কোনো বড় অনিয়ম হয়নি এবং গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান আমানত প্রমাণ করে যে সোনালী ব্যাংকের প্রতি জনআস্থা এখন অত্যন্ত শক্তিশালী।