সিলেট শহরের পাঠানটুলা এলাকায় অবস্থিত তারাপুর চা-বাগানের গৌরনিতাই মন্দিরে রোববার ভোরে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের দ্বারা আগুন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা সকালে মন্দিরের ভেতরে ধোঁয়া এবং আগুনের নিদর্শন দেখতে পান। আগুনে মন্দিরের কাঠ, বাঁশ ও টিনের নির্মাণাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সঙ্গে পুড়ে গেছে ভেতরে রাখা কৃষ্ণের ছবি, গীতা সহ পূজার উপকরণ।
Table of Contents
ঘটনার প্রাথমিক বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাতটার দিকে স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরটি দেখতে পান। খবর পেয়ে চা-শ্রমিকরা সেখানে জড়ো হন এবং পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করেন বিএনপি নেতা ও পুলিশ সদস্যরা। মন্দির কর্তৃপক্ষ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তারাপুর চা-বাগান পঞ্চায়েতের সাধারণ সম্পাদক সুনীল মোদী জানান, “আহত বা প্রাণহানির ঘটনা না হলেও মন্দিরের একটি অংশ এবং ভেতরে থাকা ধর্মগ্রন্থ ও পূজার উপকরণ পুড়ে গেছে। কে বা কারা আগুন দিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।”
চা-শ্রমিকরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর থেকে নিয়মিত পূজা-অর্চনা চলে আসছিল। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এবং দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, টুকেরবাজার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান, স্থানীয় বাসিন্দা সজীব খান ও আফসর খানসহ বিএনপির বিভিন্ন নেতা–কর্মী ঘটনাস্থলে যান। তারা বলেন, মন্দির ও ধর্মগ্রন্থ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, “দেশ গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ঠিক এই সময় অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা আবশ্যক।”
পুলিশ প্রতিক্রিয়া
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মুবাশ্বির আলী জানান, পুলিশ খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। “আমরা দোষীদের শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছি,” তিনি জানান।
ক্ষয়ক্ষতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| ক্ষতিগ্রস্ত অংশ | বিবরণ |
|---|---|
| মন্দিরের কাঠ ও বাঁশ | অর্ধেক অংশ পুড়ে ছাই |
| টিনের নির্মাণাংশ | ক্ষতিগ্রস্ত |
| কৃষ্ণের ছবি | সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে |
| ধর্মগ্রন্থ (গীতা) | ধ্বংস হয়েছে |
| পূজার উপকরণ | অর্ধেক পুড়ে গেছে |
| অর্থ ও দানবস্তু | ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে |
সামাজিক প্রভাব
স্থানীয় চা-শ্রমিকরা জানান, মন্দিরের অগ্নিকাণ্ডের ফলে সাম্প্রদায়িক পরিবেশে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দাবি করেন, দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তদের এ ঘটনার ফলে পাঠানটুলা ও তারাপুর চা-বাগানের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসন এবং সমাজের সকল স্তরের তৎপরতা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
