সিদ্ধিরগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৬ জন আটক, অস্ত্র ও মাদক জব্দ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গভীর রাতে পুলিশের বিশেষ ব্লক রেইড অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ছয়জন ডাকাতসহ মোট আটজন আসামিকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও ডাকাতির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এমন তৎপরতা নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আওতাধীন চিত্তরঞ্জন ঘাট ও মাঝিপাড়া এলাকায় ব্লকেড ও তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে আরামবাগের চিত্তরঞ্জন এলাকায় বড় পুকুরের পূর্ব পাড়সংলগ্ন কাঠগাছের বাগানে কয়েকজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়। একই রাতে পৃথক আরেকটি অভিযানে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. মহিন (২৯), মো. সজিব (২৮), মো. রনি (৩০), মো. বাবু (৩০), মো. হাসান (২০), ইমন (২৫), শামীম (৩৩) ও জসিম (৩৮)। তাদের অধিকাংশই সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং এর আগেও কয়েকজনের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল এবং রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে বড় ধরনের অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরঞ্জাম দেখে পুলিশের ধারণা, পরিকল্পনাটি ছিল সুপরিকল্পিত ও ভয়াবহ।

অভিযানে উদ্ধারকৃত আলামতের বিবরণ নিচের ছকে তুলে ধরা হলো—

উদ্ধারকৃত আলামতপরিমাণ
চাপাতি১টি
বড় ছুরিএকাধিক
সুইচ গিয়ারএকাধিক
দ্বিধারী কুড়াল১টি
করাত১টি
লোহার রড১টি
এসএস পাইপ১টি
হেরোইন১০০ পুরিয়া
ইয়াবা ট্যাবলেট৫০ পিস

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, এ ঘটনায় থানার উপপরিদর্শক গাজী মাহতাব উদ্দিন বাদী হয়ে আটককৃতদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাগুলোতে ডাকাতির প্রস্তুতি, অবৈধ অস্ত্র বহন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ায় নেওয়া হবে। পুলিশের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চললে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।