নিজস্ব প্রতিবেদক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তাজউদ্দীন আহমদ হলে নিজ কক্ষে অবস্থানরত Channel 14-এর প্রতিনিধি আসাদুল আলমকে মারধর এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁকে হল থেকে বের করে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে মামলা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে তাজউদ্দীন আহমদ হলের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন আসাদুল আলম। এ সময় একদল শিক্ষার্থী তাঁর কক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁদের মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে আসাদুলকে মারধর করা হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আসাদুলের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তাঁকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে সেখানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশের মাধ্যমে তাঁকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসাদুল আলমের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। তবে কোন অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হচ্ছে, মামলার নির্দিষ্ট ধারা কী এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়েছে কি না—এসব তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, তাজউদ্দীন আহমদ হল কর্তৃপক্ষ কিংবা আশুলিয়া থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার কারণ, এতে কারা জড়িত ছিলেন এবং আসাদুলকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের আগে ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল—এসব প্রশ্নেরও পূর্ণাঙ্গ উত্তর মেলেনি।
একজন সংবাদকর্মীকে তাঁর অবস্থানরত কক্ষে গিয়ে মারধর, ব্যক্তিগত ব্যবহারের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ভাঙচুর এবং পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে আসাদুল আলমের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত অভিযোগ থাকলে সেটিও প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। সংবাদকর্মীর নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত সম্পদের সুরক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে হামলার প্রকৃত কারণ, দায়ীদের পরিচয় এবং আসাদুল আলমের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।










