,

সাভারে তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দম্পতির মরদেহ, পাশে মৃত ভ্রূণ

ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষ থেকে আনুমানিক পাঁচ মাস বয়সী একটি মৃত ভ্রূণও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্তের পাশাপাশি ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুড়া পাকপাড়ার নাজমা আক্তার, ৩৩, এবং তাঁর স্বামী আলমগীর হোসেন, ৪২। আলমগীরের বাড়ি নিশা পলাশবাড়ী এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট ওই কক্ষটি ভাড়া নেন আলমগীর ও নাজমা। কয়েক দিন ধরে তাঁদের কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। শুক্রবার আশপাশের কক্ষের বাসিন্দারা সেখান থেকে দুর্গন্ধ পেতে শুরু করেন। বিষয়টি তাঁরা ভবনের মালিককে জানান।

প্রথম দিকে ভবনটির মালিক ধারণা করেছিলেন, সম্ভবত কোনো বিড়াল বা অন্য কোনো প্রাণী মারা গিয়ে কক্ষের ভেতরে পড়ে আছে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুর্গন্ধ তীব্র হয়ে ওঠায় সন্দেহ বাড়ে। পরে শুক্রবার রাতে মালিক ও কয়েকজন ভাড়াটে কক্ষটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে খাটের ওপর নাজমা ও আলমগীরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। কক্ষের ভেতরেই একটি মৃত ভ্রূণও পাওয়া যায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন।

স্থানীয় ভাড়াটেদের কয়েকজন জানিয়েছেন, কক্ষটি ভাড়া নেওয়ার সময় নাজমা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তিনি আশপাশের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাঁর স্বামী আলমগীর হকার হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন বা সাম্প্রতিক সময়ে কারও সঙ্গে বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

নাজমার বোন শাপলা বেগম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেলেই তাঁর সঙ্গে নাজমার শেষ দেখা হয়েছিল। একই এলাকায় দুই বোন একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। শুক্রবার নাজমাকে কর্মস্থলে না দেখে তিনি প্রথমে ধারণা করেছিলেন, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় হয়তো শারীরিক কোনো সমস্যার কারণে কাজে আসেননি।

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নাজমা ও আলমগীরকে গলাটিপে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে পরিবারের এই অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের আগে অথবা পরে নাজমার গর্ভপাত হয়ে থাকতে পারে এবং সেখান থেকে আনুমানিক পাঁচ মাস বয়সী ভ্রূণটি বের হয়ে আসে। ঘটনাস্থলের আলামত ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করছে।

পুলিশ এখন ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করছে। একই সঙ্গে দম্পতির মৃত্যুর সময়, মৃত্যুর কারণ, ভ্রূণের মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের রহস্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।