,

রক্তাক্ত স্ত্রীর মরদেহের পাশেই ঝুলছিল স্বামীর দেহ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিজ ঘর থেকে এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ এবং তাঁর স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজনদের দাবি, পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে ওই বৃদ্ধ ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর ঘরের ফ্যান ঝোলানোর হুকের সঙ্গে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের রসিকনগর বাবুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারী মনোয়ারা বেগমের বয়স ৬০ বছর। তাঁর স্বামী মফিজুল হকের বয়স ৭৫ বছর। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মফিজুল হক কয়েক বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং এ কারণে তাঁর চিকিৎসাও চলছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়েও তাঁর চিকিৎসা অব্যাহত ছিল। ঘটনার দিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে বিরোধ হয়েছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, কোনো একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে মফিজুল হক ঘরে থাকা ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘরের মেঝেতে পড়ে যান। পরে মফিজুল হক নিজেই ফ্যান ঝোলানোর হুকের সঙ্গে ফাঁস নেন বলে পরিবারের সদস্যদের ধারণা।

ঘটনাটি প্রথম নজরে আসে মফিজুল হকের প্রবাসী ছেলের স্ত্রী শাপলা বেগমের। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি একটি দাওয়াত থেকে বাড়ি ফিরে দেখেন, ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। সন্দেহ হওয়ায় তিনি জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরে তাকান। তখন শাশুড়ি মনোয়ারা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখতে পান। একই সঙ্গে পরিস্থিতি দেখে তিনি স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানান।

পরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তাঁরা মনোয়ারা বেগমকে মৃত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে এবং মফিজুল হককে ফ্যানের হুকের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে রাত আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

পরে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মফিজুল হকের দুই জামাতা রফিকুল ইসলাম ও ইউসুফ আলী দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর মানসিক সমস্যার বিষয়ে অবগত ছিলেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্বশুরের চিকিৎসাও চলছিল। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তাঁদের কারও বিরুদ্ধে মামলা করার ইচ্ছা নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই মারা গেছেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। পাশাপাশি মনোয়ারা বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই ঘরে স্বামী-স্ত্রীর এমন মৃত্যু ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় থাকা কোনো ব্যক্তির আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে। তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।