‘সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ সেবা তৃণমূলে পৌছে দিন

IMG 6939 'সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন' সেবা তৃণমূলে পৌছে দিন

তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীর অন্তর্ভূক্তি
ইন্টারনেট ও ডিভাইসের দাম কমান

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ-এর দাবী

জি.লাইভ ডেস্ক

তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীর সহজ অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিতের জন্য প্রশিক্ষণ, ইন্টারনেট এর দাম হ্রাস ও এ সংক্রান্ত ডিভাইস সহজলভ্য করার দাবী জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

এছাড়াও, অনলাইনে গুজব, ভুলতথ্য পরিবেশন, মিথ্যা বা অপপ্রচারের মাধ্যমে নারী বিদ্বেষী তৎপরতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অপরাধীকে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনা এবং অনলাইনে হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারীরা যাতে সহজে অভিযোগ করতে পারে সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ পরিচালিত সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন পরিসেবাটিকে তৃণমূল পর্যন্ত ব্যাপক প্রচারের দাবী করেছে দেশের নারী সমাজের বৃহৎ এ সংগঠনটি।

মঙ্গলবার, ২১ মার্চ তারিখে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বৈশ্বিক শ্লোগান “DigitALL: Innovation and technology for gender equality” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে “নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতা অর্জনে তথ্য ও প্রযুক্তির ভূমিকা” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব দাবী করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর সামিনা চৌধুরী ও ড. লাফিফা জামাল, প্রফেসর, রোবোটিক্স এবং মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
আলোচনায় অংশ নেন ড. নোভা আহমেদ, প্রফেসর, ইলেকট্রিক্যাল এবং কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং আ.স.ম. হাবিবুর রহমান, ওয়েব ডেভেলপার।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের তথ্য প্রযুক্তি কর্মকর্তা দোলন কৃষ্ণ শীল।IMG 6884 1 'সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন' সেবা তৃণমূলে পৌছে দিন

 

 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
উন্নয়নকে টেকসই করতে নারীসমাজকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়নের ধারায় অগ্রসর হতে হবে। আজকের দিনে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তথ্যপ্রযুক্তিকে নারীমুক্তি ও জেন্ডার সমতার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, নারী-পুরুষের বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে ডিজিটাল বিশ্ব কে নারী-পুরুষ সকলের জন্য নিরাপদ, সহজলভ্য, সৃজনশীল, সহনশীল এবং মানবিক করে গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর সামিনা চৌধুরী বলেন, কোভিডকালে টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে চারলক্ষ নারীকে আমরা সেবা দিতে সক্ষম হয়েছি। তরুণদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে প্রান্তিক নারী জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স এবং মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. লাফিফা জামাল বলেন, প্রযুক্তি এখন মুষ্টিমেয় জনগোষ্ঠীর বিষয় নয়। এখন ব্যবহারকারীদের প্রযুক্তিতে অংশগ্রহণ বেড়েছে। বিজ্ঞান ও পরিসংখ্যানের মত বিষয়ের পড়াশোনায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে তবে ছেলেমেয়েদের প্রযুক্তিগত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগে ক্ষেত্রে এখনো পারিবারিক বৈষম্য আছে।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীর অন্তর্ভূক্তি

বেসিসের সাবেক সভাপতি ও ডাটা সফট এর প্রতিষ্ঠাতা এ কে মাহবুব জামান বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং কোভিড পরবর্তী পরিস্হিতি তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারকে আরো তরান্বিত করেছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এবং কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. নোভা আহমেদ বলেন, এখনো তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক শিক্ষা গ্রহণে মেয়েদের উপস্থিতি কম।

বক্তারা বলেন, এর কারণ সামাজিক বাধা,প্রাতিষ্ঠানিক বাধা, নীতিগত পরিবর্তনের অভাব।

IMG 6816 1 'সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন' সেবা তৃণমূলে পৌছে দিন

ওয়েব ডেভেলপার আ.স.ম. হাবিবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে যেয়ে দেখা গেছে কাজ দেয়ার ক্ষেত্রে লিঙ্গগত পরিচিতির চেয়ে কাজের দক্ষতাকে গুরুত্ব দেয়া হয়। অনলাইনে কাজের প্রসারের কারণে নারীদের বাইরে যাওয়ার বাধা নেই। নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ আছে কিন্তু তাদের উপস্থিতি কম।

মহিলা পরিষদ সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, আমরা একটা প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রিত বিশ্বে বসবাস করছি।জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় প্রযুক্তির ব্যবহার কিভাবে হবে, নারীকে কিভাবে প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করা যায় তা সরকারকে ভাবতে হবে।

ইন্টারনেট ও ডিভাইসের দাম কমান

মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী নাবিল, আইটি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুর রহমান, তিলপা পাড়া কমিটির সদস্য মো ফাহিম, নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী স্বর্ণা ও ইফতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন্স সোসাইটির সহ-সভাপতি সানজিদা আফরিন ও রিফা তাসনিয়া, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ফাহমিদা নাজনীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইরি জামান নিশু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষক সংগীতা আহমেদ ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. সিউতি সবুর।

 

Leave a Comment