আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণার সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের জনসভা, মিছিল, শোভাযাত্রা এবং রাজনৈতিক প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জারিকৃত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ভোট গ্রহণ ও প্রচারণার সময়সীমা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশব্যাপী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো জনসম্মতি যাচাইয়ের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে এবং ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সকল প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক। সেই হিসেবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটার পর থেকে আর কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল প্রচার কার্যে অংশ নিতে পারবেন না।
কঠোর বিধিনিষেধের সময়কাল
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এই বিধিনিষেধ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় কোনো ব্যক্তি জনসভা ডাকতে বা তাতে অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়া কোনো প্রকার মিছিল, শোভাযাত্রা বা এ জাতীয় কর্মসূচি পালন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
ভোট গ্রহণ ও বিধিনিষেধ সংক্রান্ত সময়সূচি এক নজরে:
| বিষয় | নির্ধারিত তারিখ ও সময় |
| প্রচারণা শেষ করার সময় | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ৭:৩০ মিনিট |
| ভোট গ্রহণ শুরু | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ৭:৩০ মিনিট |
| ভোট গ্রহণ শেষ | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিকেল ৪:৩০ মিনিট |
| বিধিনিষেধ সমাপ্তি | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিকেল ৪:৩০ মিনিট |
| মোট বিধিনিষেধের সময়কাল | ৯৬ ঘণ্টা (ভোটের আগে ও পরে মিলিয়ে) |
ইসির কঠোর সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, বিধিনিষেধ চলাকালীন সময়ে কেউ নির্বাচনী এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে বা প্রচারণার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভোট কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ইতিমধ্যে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে এক বিশাল নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার প্রস্তাবনার ওপর অনুষ্ঠিতব্য গণভোটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় কমিশন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। এবারের নির্বাচনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ অ্যাপ ও পর্যবেক্ষক দল মোতায়েন করা হয়েছে। ইসির মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা চাই একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নাগরিকরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক। তাই প্রচারণার শেষ মুহূর্তের পর থেকে সকল পক্ষকে সংযত আচরণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
মঙ্গলবার সকাল থেকে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে জেল-জরিমানাসহ প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। নাগরিকদের কোনো প্রকার গুজবে কান না দিয়ে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানের অনুরোধ করেছে কমিশন।
