ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলাকালে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মো. মুজাহিদুল ইসলাম (৪৫) নামে এক পোলিং কর্মকর্তার আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সিরাজুল ইসলাম অডিটোরিয়াম কেন্দ্রে ৫১ নম্বর ভোটকক্ষে দায়িত্ব পালনকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে সহকর্মীরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু বকর সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে চলছিল। এ সময় মুজাহিদুল ইসলাম হঠাৎ শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করলে সহকর্মীরা দ্রুত ব্যবস্থা নেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, হৃদ্রোগজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।
মো. মুজাহিদুল ইসলাম সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়ন ইসলামী ফাউন্ডেশনের একজন শিক্ষক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন। সহকর্মীদের মতে, তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীল, সৎ ও পরিশ্রমী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নির্বাচন পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে তিনি সবসময় আন্তরিক ছিলেন।
তার অসুস্থতার পর ৫১ নম্বর ভোটকক্ষের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত বিকল্প পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ফলে সামগ্রিক ভোটপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটেনি। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন ছিল এবং অন্যান্য কক্ষে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক ছিল।
ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মৃতের নাম | মো. মুজাহিদুল ইসলাম |
| বয়স (আনুমানিক) | ৪৫ বছর |
| দায়িত্ব | পোলিং অফিসার |
| কর্মস্থল | পানিশ্বর ইউনিয়ন ইসলামী ফাউন্ডেশন |
| ঘটনা স্থান | সিরাজুল ইসলাম অডিটোরিয়াম কেন্দ্র, ৫১ নম্বর ভোটকক্ষ |
| ঘটনা সময় | ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল সাড়ে ১০টা |
| হাসপাতালে নেওয়া হয় | সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
| প্রাথমিক মৃত্যুর কারণ | হৃদ্রোগজনিত (প্রাথমিক ধারণা) |
উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ইউএনও জানান, নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী মৃত কর্মকর্তার পরিবারের জন্য প্রাপ্য আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মুজাহিদুল ইসলাম ছিলেন একজন সজ্জন ও কর্তব্যপরায়ণ মানুষ। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তার মৃত্যু হয়েছে—এ ঘটনা যেমন শোকাবহ, তেমনি তা এক ধরনের দায়িত্বনিষ্ঠার উদাহরণ হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এদিকে নির্বাচনকালীন দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করা, মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব—এসব বিষয় বিবেচনায় ভবিষ্যতে চিকিৎসা সহায়তা ও স্বাস্থ্যপর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
