বাণিজ্যিক উত্তেজনা ও শুল্কের ধাক্কা সত্ত্বেও বুধবার সাংহাইয়ে পর্দা উঠছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অটোমোবাইল প্রদর্শনী ‘অটো সাংহাই’। এই আয়োজনে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) প্রযুক্তির সম্ভাবনা এবং বিলাসবহুল উচ্চপ্রযুক্তির একাধিক নতুন মডেল উন্মোচিত হবে। ২ মে পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, প্রায় ১,০০০ প্রদর্শক এতে অংশ নিচ্ছে। বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাতারা চীনের বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার লক্ষ্যে এ প্রদর্শনীকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ দেশটিতে ইভি খাতে প্রতিযোগিতা এখন শীর্ষে, যেখানে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো আধিপত্য করছে।
চীন সরকার দীর্ঘদিন ধরে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ি শিল্পে বিপুল বিনিয়োগ করে বাজার সম্প্রসারণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক গাড়ি বাজার যেখানে স্থবির, সেখানে চীনের ইভি বাজার ক্রমবর্ধমান এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে আরও উন্মুক্ত।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এলিক্সপার্টনার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তিসহ বুদ্ধিমান গাড়ির প্রসারও ঘটছে।
মঙ্গলবার রাতে ভক্সওয়াগেন ‘চীনের জন্য চীনে নির্মিত’ নতুন কয়েকটি মডেল এবং উন্নত ড্রাইভার সহায়তা প্রযুক্তি উন্মোচন করেছে। ভক্সওয়াগেন চায়না প্রধান রালফ ব্র্যান্ডস্ট্যাটার বলেন, “আমাদের ইভি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অধ্যায় এখান থেকেই শুরু।”
প্রদর্শনীতে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে হাজির হয়েছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ নিও, এক্সপেং, প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ে এবং ইলেকট্রনিক্স থেকে গাড়ি নির্মাণে আসা শাওমি। এই প্রতিযোগিতা দেশীয় কোম্পানিগুলোকে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিতে আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করছে।
ব্যাটারি নির্মাতা সিএটিএল জানিয়েছে, তারা এমন ব্যাটারি তৈরি করেছে যা মাত্র পাঁচ মিনিটে ৫২০ কিলোমিটার রেঞ্জ পুনরুদ্ধার করতে পারে, যা প্রতিদ্বন্দ্বী বিওয়াইডি-র চেয়ে এগিয়ে।
তবে বাজারের অতিরিক্ত প্রতিযোগিতায় অনেক স্টার্টআপ ইতিমধ্যে দেউলিয়া হয়েছে। অন্যদিকে এসএআইসি, বিবিওয়াইড ও জেলো-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো তীব্র মূল্যযুদ্ধে লিপ্ত। ফলে, নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে অনেক চীনা নির্মাতা ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
২০২৩ সালে চীন ৬.৪ মিলিয়ন যাত্রীবাহী গাড়ি রপ্তানি করেছে, যা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি।
তবে রপ্তানির পথেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত বছর চীনা গাড়ির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। কারণ ইউরোপ মনে করে, চীনের রাষ্ট্রীয় সহায়তা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য প্রতিযোগিতায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এছাড়া, অভ্যন্তরীণ বাজারেও চ্যালেঞ্জ কম নয়। কোভিড পরবর্তী দুর্বল অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কম ভোক্তা ব্যয় এবং অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ আছে।
এ প্রসঙ্গে জার্মান গাড়ি বিশেষজ্ঞ ফার্দিনান্দ ডুডেনহোফার বলেন, “যারা বলে চীন দুর্বল হচ্ছে, তাদের একবার সাংহাইয়ের দিকে তাকানো উচিত।”
