কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত তাঁর নিজ বাসা এস এইচ ম্যানশন থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাজ্জাদ হোসেনকে কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর শনিবার সকালে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সাজ্জাদ হোসেন স্বপন বুড়িচং উপজেলার বাকশীমুল গ্রামের মৃত আয়েত আলীর ছেলে। তিনি ২০০৯ সালে বুড়িচং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলেন। তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাজ্জাদ হোসেন কিছু সময় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তিনি আবার প্রকাশ্যে চলাফেরা শুরু করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। গ্রেপ্তারের আগে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি কুমিল্লা নগরীর নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, বাসায় অবস্থান করেও তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলেন। জেলায় বিভিন্ন সময় অনুষ্ঠিত কয়েকটি মিছিল আয়োজনের নেপথ্যেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের কয়েক দিন আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তোলা একটি দলীয় ছবি প্রকাশ করেছিলেন সাজ্জাদ হোসেন। ওই পোস্টকে তাঁর প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছে পুলিশ।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার জানান, জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় সাজ্জাদ হোসেনকে আসামি করা হয়েছিল। ওই মামলাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তাঁকে আদালতে পাঠানোর পর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে মামলাটির অভিযোগ, তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মামলায় সাবেক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। সাজ্জাদ হোসেনের গ্রেপ্তারও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। এখন মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আদালত কার্যক্রমের ওপরই নির্ভর করবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের আইনি অগ্রগতি।










