বাংলাদেশের অবিনশ্বর সংগীত জগতের অন্যতম প্রধান এবং অন্যতম জীবন্ত কিংবদন্তি, প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীকে তার সুদীর্ঘ, গৌরবোজ্জ্বল এবং নিবেদিত সংগীত সাধনার অসামান্য স্বীকৃতিস্বরূপ একটি বিশেষ সম্মাননা প্রদান করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। আগামী ১২ জুন তারিখ সন্ধ্যায় এই বর্ণাঢ্য সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন সুচারুভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এই জাতীয় অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে ৮৫ বছর বয়সে পদার্পণ করা এই প্রবীণ ও গুণী সংগীতশিল্পী উক্ত অনুষ্ঠানে স্বয়ং উপস্থিত থেকে এই পরম সম্মাননা স্মারকটি গ্রহণ করবেন। শুধু আনুষ্ঠানিক সম্মাননা গ্রহণই নয়, এর পাশাপাশি তিনি নিজে মূল মঞ্চে উপস্থিত থেকে তার অগণিত ভক্ত, অনুরাগী ও সাধারণ শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে সরাসরি সংগীত পরিবেশন করবেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নিজস্ব জনসংযোগ বিভাগ থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং সামগ্রিক অনুষ্ঠান সূচির যাবতীয় তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের নাম, অতিথি এবং সাংগঠনিক বিবরণ
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ এবং प्रत्यक्ष পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এই ব্যতিক্রমী, অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করেছে। সামগ্রিক এই বিশেষ আয়োজনটির প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়েছে ‘কালজয়ী কণ্ঠ: শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’। শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে প্রেরিত উক্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করে জানানো হয় যে, আগামী ১২ জুনের এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নিতায় রায় চৌধুরী। এর পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আসন অলঙ্কৃত করবেন একই মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এই বিশেষ রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) বর্তমান আহ্বায়ক হেলাল খান। অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ও সুসজ্জিত এই বিশেষ আয়োজনের উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ।
সম্মাননা প্রদানের প্রেক্ষাপট ও শিল্পীর অবদান
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তাদের প্রকাশিত ও প্রচারিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রবীণ সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর সুদীর্ঘ সংগীত জীবনের অবদানের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এবং বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, গত অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সামগ্রিক বাংলা সংগীত জগতকে তার নিজস্ব অনন্য কণ্ঠমাধুর্য, সুগভীর শিল্পনিষ্ঠা এবং অতুলনীয় ও অনবদ্য পরিবেশনার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ, আধুনিক ও বেগবান করে চলেছেন। তার সুদীর্ঘ সংগীত জীবনে গাওয়া অসংখ্য জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান এ দেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে। বাংলাদেশের সংগীত ক্ষেত্র এবং সামগ্রিক সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পেছনে এই গুণী শিল্পীর যে অসামান্য, অবিস্মরণীয় ও অতুলনীয় অবদান রয়েছে, তার প্রতি যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান ও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের লক্ষ্যেই এই বিশেষ সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্তটি গুরুত্বের সাথে গৃহীত হয়েছে। বর্তমানে শিল্পীর বয়স ৮৫ বছর অতিক্রম করলেও তার জাদুকরী কণ্ঠে পূর্বের সেই সুপরিচিত ভরাট স্বর, গায়কীশৈলী এবং দরদ সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রয়েছে, যা বাংলা সংগীতের দীর্ঘ ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল এবং অনন্য একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সাংস্কৃতিক পর্ব ও একক পরিবেশনা
সম্মাননা প্রদানের মূল আনুষ্ঠানিকতা ও আমন্ত্রিত гостей বক্তব্য পর্ব সফলভাবে শেষ হওয়ার পর, ওই দিন ঠিক সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ শুরু হবে মিলনায়তনের প্রধান আকর্ষণ অর্থাৎ জমকালো সাংস্কৃতিক পর্ব। এই পর্বের সূচনায় প্রথমে সৈয়দ আব্দুল হাদীর দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, সমাদৃত এবং কালজয়ী কিছু নির্বাচিত গান নতুন আঙ্গিকে পরিবেশন করবেন বর্তমান প্রজন্মের বেশ কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল ও অত্যন্ত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। নতুন প্রজন্মের তরুণ শিল্পীদের এই মনোজ্ঞ পরিবেশনা শেষ হওয়ার পরপরই মূল মঞ্চে শুভ আগমন ঘটবে স্বয়ং সংগীতের মহান কিংবদন্তি সৈয়দ আব্দুল হাদীর। এই বিশেষ সাংস্কৃতিক পর্বের মূল এবং প্রধান আকর্ষণ হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে খোদ এই প্রবীণ শিল্পীর নিজস্ব একক সংগীত পরিবেশনা। জীবনের ৮৫টি বসন্ত পার করে এসেও তিনি সরাসরি মঞ্চে আরোহণ করবেন এবং তার চিরসবুজ ও তুমুল জনপ্রিয় গানগুলো গেয়ে উপস্থিত দর্শক, শ্রোতা ও ভক্তদের দীর্ঘদিনের আকুল প্রতীক্ষার অবসান ঘটাবেন। প্রবীণ ও সম্মানিত এই শিল্পীর কণ্ঠ থেকে সরাসরি গান শোনার একটি profesনাল ও দুর্লভ সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তাদের এই বিশেষ অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বের রূপরেখা ও সূচি এমন সুন্দরভাবে বিন্যাস করেছে।
