শিরীন শারমিন চৌধুরী. (জন্ম: ৬ অক্টোবর ১৯৬৬) একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি নবম জাতীয় সংসদের স্পিকারসহ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে ৩০ এপ্রিল, ২০১৩ তারিখে নির্বাচিত হন।
Table of Contents
শিরীন শারমিন চৌধুরী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

জন্ম ও শিক্ষাজীবন
শিরীন শারমিন চৌধুরী ১৯৬৬ সালের ৬ অক্টোবর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। নোয়াখালী জেলার চাটখিলের সিএসপি অফিসার ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব রফিকুল্লাহ চৌধুরীর কন্যা তিনি। আর মা ছিলেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য প্রফেসর নাইয়ার সুলতানা। তার নানা ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতি সিকান্দার আলী। তার স্বামী সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেন ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানীর পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। তাদের সংসারে এক পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে।
শিরীন শারমিন চৌধুরী ১৯৮৩ সালে ঢাকা বোর্ডে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৮৫ সালে এইচএসসি-তে একই বোর্ডে মানবিক বিভাগে সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

১৯৮৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও ১৯৯০ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম-এ ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হন। শিরীন শারমিন চৌধুরী একজন কমনওয়েলথ স্কলার। ২০০০ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে পিএইচডি লাভ করেন। তার গবেষণার বিষয়বস্তু ছিলো সংবিধানিক আইন ও মানবাধিকার।
৪৬ বছর বয়সে তিনি সর্বকনিষ্ঠ স্পিকাররূপে সাবেক স্পিকার ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আব্দুল হামিদের স্থলাভিষিক্ত হন। এরপূর্বে তিনি বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০১৮ এ তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন এবং ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারী পুনরায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
কর্মজীবন
এলএলএম পাশ করার পর তিনি ১৯৯২ সালেই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে তার ১৫ বছর এডভোকেট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং সেইসাথে সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন।

স্পিকার
সভাধ্যক্ষ বা স্পিকার (ইংরেজি: Speaker) একটি রাজনৈতিক পরিভাষা ও পদবি বিশেষ। প্রায়শঃই তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে আইনসভায় তিনি সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করে যথোচিত সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিতর্কের মধ্যস্থতা, সিদ্ধান্ত প্রদান, ভোটের ফলাফলসহ প্রয়োজনীয় কার্যাবলী সম্পাদন করেন। সভায় কে কথা বলতে পারবেন তা তিনি নির্ধারণ করেন এবং নিয়ম-বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের জন্য সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি ব্যক্তি হিসেবে সভায় প্রতিনিধিত্ব করেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য পরিস্থিতিতে প্রধান মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন। ১৩৭৭ সালে সর্বপ্রথম এ পদবি ধারণের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইংল্যান্ডের কমন্স সভায় স্যার থমাস ডি হাঙ্গারফোর্ড স্পিকার হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন।
সাধারণতঃ সংসদে তিনি মিস্টার স্পিকার এবং নারী হিসেবে ম্যাডাম স্পিকার নামে তাঁকে সম্বোধন করা হয়। বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সংস্কৃতিতে ইংরেজি ভাষার সমান্তরালে চেয়ারম্যান কিংবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত হন। কানাডার ফরাসীভাষী কমন্স সভা কিংবা আইনসভায় তাকে প্রেসিডেন্টরূপে সম্ভাষণ করা হয়।
আরও দেখুনঃ