শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আগামী ২৩ আগস্ট ঢাকা সফরে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের দৃশ্যমান উন্নয়ন ও উষ্ণতার প্রেক্ষাপটে এই সফরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

পাকিস্তানি দৈনিক দ্য ডন জানিয়েছে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ একসময় একই রাষ্ট্রের অংশ ছিল, তবে ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশে পরিণত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের নেতৃত্ব — বিশেষত ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার — ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত রাখত।

তবে গত বছরের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং তার পরবর্তী সময়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উষ্ণতা ফিরে এসেছে। এর ফলে বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।

ইসহাক দার চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও ঢাকা সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু ভারতের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত হয়। নতুন সূচি অনুযায়ী, তিনি আগামী ২৩ আগস্ট ঢাকা পৌঁছাবেন।

দ্য ডন–এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সফরের বিষয়ে সংক্ষিপ্তভাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ”। তার এ সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার বিষয়ে আলোচনা হবে। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন–এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়াও তার আরও কিছু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি রয়েছে।

সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক অগ্রগতি

সময়কালঅগ্রগতি / ঘটনা
আগস্ট ২০২৪পাকিস্তান ও বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশে নীতিগতভাবে সম্মত হয়।
এপ্রিল ২০২৪পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালোচ ১৫ বছর পর ঢাকায় পররাষ্ট্র দপ্তরের পরামর্শ সভায় যোগ দেন।
মার্চ ২০২৪পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোনে কথা বলেন এবং সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ফেব্রুয়ারি ২০২৪দীর্ঘ বিরতির পর সরকার-থেকে-সরকার সরাসরি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়; পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ৫০ হাজার টন চাল আমদানি।
নভেম্বর ২০২৪করাচি থেকে চট্টগ্রামে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজ আসে।
ডিসেম্বর ২০২৩কায়রোতে ডি-৮ সম্মেলনের ফাঁকে শেহবাজ শরিফ ও ড. ইউনূস ১৯৭১ সালের বিচ্ছেদ-সংক্রান্ত ঝুলে থাকা সমস্যা সমাধানে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

দুই দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক অগ্রগতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে পারে। ইসহাক দারের এই সফরকে সেই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।