শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন রাজনীতিবিদ এবং লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর উপজেলা) আসনের সাবেক সাংসদ। তিনি ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

প্রাথমিক ও শিক্ষা জীবন
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ১৯৬৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর গ্রামে সম্ভ্রান্ত চৌধুরী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হাজী বশির উল্যাহ চৌধুরী, যিনি লক্ষ্মীপুরের একজন বনেদী ব্যবসায়ী ছিলেন। এ্যানি চৌধুরীর মায়ের নাম হোসেনে আরা বেগম। তিনি একজন গৃহিণী।
এ্যানি চৌধুরীর পিতামহ হাজী পানা মিয়া, যিনি বৃটিশ শাসনামলে ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। দুই চাচাতো ভাই সাহাবুদ্দিন চৌধুরী এবং চৌধুরী খোরশেদ আলম এক সময়ে লক্ষ্মীপুরে সংসদ সদস্য ছিলেন।
১৯৭১ সালে মাত্র ৪ বছর বয়সে গৃহ শিক্ষকের মাধ্যমে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। এরপর যথাক্রমে লক্ষ্মীপুর টাউন প্রাথমিক বিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর প্রাইমারী ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।
১৯৮৫-১৯৮৬ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন এবং রসায়নিক প্রযুক্তিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৮৮ সালে এই বিভাগ থেকে অনার্স এবং ১৯৮৯ সালে এম.এস.সি ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিপ্লোমা-ইন এডুকেশন সমাপ্ত করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তার স্ত্রী পারভীন আক্তার চৌধুরী একজন গৃহিণী।

রাজনৈতিক ও কর্মজীবন
বিএনপির প্রচার বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর উপজেলা) আসন থেকে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ ও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান লক্ষ্মীপুরে মূসার খাল খনন কর্মসূচীতে এলে সেই কর্মসূচী পালনের মধ্য দিয়ে স্কুল জীবনেই এ্যানি চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮৩ সালে তিনি ঢাকা তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সদস্য হন। পরবর্তীতে তিনি সরকারী বিজ্ঞানকলেজ ঢাকায় ভর্তি হন এবং সেখানেও ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে তিনি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক, ১৯৮৮ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে তিনি জিয়াউর রহমান হল ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন।
১৯৯০ সালে তিনি সর্বোচ্চ ভোটে ডাকসুর সদস্য নির্বাচিত হন এবং ৩ বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ডাকসুর ছাত্র প্রতিনিধিহিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন। পরবর্তীতে, ১৯৯২ সালে তিনি ডাকসুর ভারপ্রাপ্ত ভিপি ও ভারপ্রাপ্ত সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে দল মনোনীত ডাকসুর জিএস পদে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন ( জগলু – এ্যানি পরিষদ )।
১৯৯৩ সালে দল মনোনীত ডাকসুর ভিপি পদে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন ( এ্যানি – সুজন পরিষদ )। ১৯৯২ সালে তিনি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক ও ১৯৯৩-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেন।

১৯৯৬-১৯৯৮ সালে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম বারের মত তিনি লক্ষ্মীপুর সদর – ৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্যছিলেন।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মীপুর সদর – ৩ আসন থেকে দ্বিতীয় বারের মতসংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি বস্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিরসদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৬ সাল থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ত্বের পাশাপাশি তিনি বর্তমানে বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসনকমিটির সমন্বয়ক, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব এবং লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক এর দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
২০০১-২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ(APPG) এর ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে তিনি এই দলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সভায় প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ ( ভারপ্রাপ্ত ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আরও দেখুনঃ