শওকত হাচানুর রহমান রিমন (জন্ম: ২৫ নভেম্বর ১৯৬৪) বরগুনা জেলার একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে টানা তিন মেয়াদে এই আসনে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার যেমন সাফল্যে ভরা, তেমনি বিভিন্ন সময়ে তিনি নানা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।
Table of Contents
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
শওকত হাচানুর রহমান ১৯৬৪ সালের ২৫ নভেম্বর বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা খলিলুর রহমান ছিলেন স্থানীয় পর্যায়ের একজন প্রবীণ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। রিমন বিজ্ঞানে স্নাতক (B.Sc) ও স্নাতকোত্তর (M.Sc) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। উচ্চ শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর রাজনৈতিক শৈলী ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং মাঠ পর্যায়ের পেশ পেশিশক্তি নির্ভর।
রাজনৈতিক উত্থান
রিমনের রাজনৈতিক হাতেখড়ি হয় স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচনের মাধ্যমে:
- চেয়ারম্যান পদ: তিনি প্রথমে পাথরঘাটার রায়হানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
- সংসদ সদস্য: ২০১৩ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলুর আকস্মিক মৃত্যুতে বরগুনা-২ আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে পা রাখেন। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়লাভ করেন।
বিতর্ক ও সমালোচনা
রিমনের রাজনৈতিক জীবনজুড়ে অসংখ্য বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা হলো:
- পারিবারিক পরিচয়: ২০১৩ সালে মনোনয়নের সময় তাঁর বাবা খলিলুর রহমান পটুয়াখালী মহকুমা রাজাকার বাহিনীর চেয়ারম্যান ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
- শারীরিক লাঞ্ছনা: সংসদ সদস্য থাকাকালীন বিভিন্ন সময় সরকারি কর্মকর্তা, দলীয় নেতা এবং সাধারণ মানুষকে প্রকাশ্যে মারধর ও চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগে তিনি ‘পিটুনি এমপি’ হিসেবে গণমাধ্যমে পরিচিতি পান।
- জাতীয় পতাকাবিদ্বেষ: মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজয় দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় একসময় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও আইনি সংকট (২০২৪-২০২৬)
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শওকত হাচানুর রহমান রিমন বড় ধরনের আইনি জালে আটকা পড়েছেন।
- দুর্নীতির মামলা: ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে ৫.৯৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। দুদকের তদন্তে তাঁর ৩৫.৯৮ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
- বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা: ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর আদালত তাঁর ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
- রাজনৈতিক মামলা: ২০২৫ সালের নভেম্বরে বরগুনা সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বলবৎ রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি বা তাঁর দল অংশগ্রহণ করতে পারেনি।
একনজরে শওকত হাচানুর রহমান রিমন
| বিষয় | তথ্য |
| জন্ম তারিখ | ২৫ নভেম্বর ১৯৬৪ |
| পেশা | ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ |
| রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
| নির্বাচিত আসন | বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) |
| সংসদীয় মেয়াদ | ২০১৩ (উপ-নির্বাচন), ২০১৪ এবং ২০১৮ |
| বর্তমান স্থিতি | পলাতক (আইনি প্রক্রিয়ার আওতাধীন) |