যুদ্ধবিরতি চুক্তি অমান্য করে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার (৯ মে) স্থানীয় সময় পরিচালিত এ হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন এবং শিশুসহ আরও ১৩ জন আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
হামলার সময় দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী (আইডিএফ) ওই অঞ্চলের অন্তত নয়টি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে সরে যাওয়ার জন্য সতর্কতা জারি করে। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এসব গ্রাম থেকে সাধারণ মানুষকে দ্রুত সরে যেতে বলা হয়।
এদিকে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ২০টির বেশি হামলার দায় স্বীকার করেছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে আইডিএফের অবস্থান লক্ষ্য করে রকেট, কামান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর হামলায় অন্তত তিনজন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন। তবে আহতদের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সীমান্তবর্তী বহু এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।
এর মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার দুই দিনব্যাপী আলোচনা আগামী ১৪ ও ১৫ মে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনায় সীমান্ত পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এবং চলমান উত্তেজনা কমানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংঘাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| হামলার স্থান | দক্ষিণ লেবানন |
| নিহত | ৪০ জন |
| আহত | ১৩ জন, যার মধ্যে শিশু রয়েছে |
| সতর্কতা জারি | ৯টি গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয় |
| হিজবুল্লাহর হামলা | ২০টির বেশি |
| ইসরায়েলি সেনা আহত | ৩ জন |
| আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে | ১৪ ও ১৫ মে, ওয়াশিংটনে |
দুই পক্ষের চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেও কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।
