লিবিয়ার উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের সবাই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। নিখোঁজদের মধ্যে ২৯ জন সুদান, আটজন সোমালিয়া, তিনজন ক্যামেরুন এবং দুজন নাইজেরিয়ার নাগরিক।
আইওএম জানায়, রাবারের তৈরি নৌকাটিতে মোট ৪৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। গত ৩ নভেম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জুয়ারা থেকে যাত্রা শুরু করার ছয় ঘণ্টা পর নৌকাটি ভূমধ্যসাগরে ডুবে যায়। ছয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর ৮ নভেম্বর লিবিয়ার উদ্ধারকারী দল সাতজনকে উদ্ধার করে।
আইওএম এই দুর্ঘটনাকে চলতি বছরের ভূমধ্যসাগরের মধ্যাঞ্চলীয় রুটে প্রাণঘাতী অভিবাসনযাত্রার সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। চলতি বছর এক হাজারেরও বেশি মানুষ ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় সাগরে প্রাণ হারিয়েছে। সংস্থাটি নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনপথ বিস্তৃত করার, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার এবং কার্যকর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানোর গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।
লিবিয়ার কোস্টগার্ড ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা সি-ওয়াচ জানায়, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লিবিয়ার কোস্টগার্ড অন্তত ৬০টি সহিংস নৌঘটনায় জড়িত ছিল। ইউরোপের ১৩টি উদ্ধার সংস্থা সম্প্রতি লিবিয়ার সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সংস্থা ফ্রনটেক্স জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলতি বছর ভূমধ্যসাগরের মধ্যাঞ্চলীয় রুট দিয়ে ৫৮ হাজারেরও বেশি মানুষ ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লিবিয়ায় প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থী অবস্থান করছেন। অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরে অভিবাসীরা নিয়মিতভাবে নির্যাতন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
টিএসএন
