জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সূচনার আগে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা সরকারি দায়িত্ব থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছেন। ভোটের আবহে দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করলেও সরকারের অভ্যন্তরে বিদায়ের প্রস্তুতি দৃশ্যমান। কেউ সরকারি বাসা ছেড়ে যাচ্ছেন, কেউ আবার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিচ্ছেন।
খোঁজে জানা গেছে, ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের দুইজন উপদেষ্টা সরকারি বাসা ছাড়ার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অন্তত ১৩ জন উপদেষ্টা ও চুক্তিভিত্তিক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের লাল বা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।
কিছু উপদেষ্টা জানান, “সরকারের দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত লাল পাসপোর্ট আমাদের কাছে থাকবে। বিদায়ের সময় সরকারি সবকিছুসহ এটি জমা দেওয়া হবে।” অন্যদিকে অনেকে ইতিমধ্যেই সরকারি দপ্তর থেকে ব্যক্তিগত নথি ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র বাসায় নিয়ে গেছেন। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকে সহজ করতে তারা সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন।
নির্বাচনের আগে সরকারের দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের বিলম্ব এড়ানোর জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ইতিমধ্যেই সরকারি বাসা ছাড়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আরও কয়েকজন উপদেষ্টা সরকারি বাসা ছেড়ে দেবেন এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন।
এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লাল পাসপোর্ট জমা দেওয়ার মূল কারণ হলো নতুন পাসপোর্টের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তিপত্র প্রাপ্তি। নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো কূটনৈতিক পাসপোর্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকেজো হয়ে যায়।
নিচের তালিকায় লাল পাসপোর্ট জমা দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩ জন উপদেষ্টার নাম দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | উপদেষ্টা ও পদবী | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ১ | অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ | নতুন পাসপোর্ট আবেদন সম্পন্ন |
| ২ | খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার | লাল পাসপোর্ট জমা |
| ৩ | শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার | সরকারি নথি হস্তান্তর প্রস্তুতি |
| ৪ | আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল | নতুন পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন |
| ৫ | গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান | সরকারি বাসা ছাড়ার চিঠি দিয়েছেন |
| ৬ | বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান | সরকারি বাসা ছাড়ার চিঠি দিয়েছেন |
| ৭ | প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার | লাল পাসপোর্ট জমা |
| ৮ | মুক্তিযুদ্ধ ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক | নথি হস্তান্তরের প্রস্তুতি |
| ৯ | মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার | লাল পাসপোর্ট জমা |
| ১০ | বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন, পর্যটন ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন | লাল পাসপোর্ট জমা |
| ১১ | মহিলা ও শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ | লাল পাসপোর্ট জমা |
| ১২ | স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম | লাল পাসপোর্ট জমা |
| ১৩ | সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী | লাল পাসপোর্ট জমা |
এছাড়া পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমও তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। উপদেষ্টারা উল্লেখ করেছেন, নতুন পাসপোর্ট নেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে ‘হ্যাসল’ এড়াতে তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। এতে দায়িত্ব হস্তান্তর ও প্রশাসনিক কাজগুলো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে।
