হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি পেতে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন জনপ্রিয় ট্রাভেল কনটেন্ট নির্মাতা ও দন্তচিকিৎসক ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। পবিত্র ওমরা পালন শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সেবা পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বিমানবন্দরে অবতরণের পর এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। নিজের ফেসবুক লাইভে ডা. ওরাকাতুল জান্নাত জানান, সকাল ৯টার পাঁচ মিনিট আগে তাঁদের উড়োজাহাজ অবতরণ করে। এরপর ট্রলি সংগ্রহের জন্য তাঁকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ট্রলি পাওয়ার পর শুরু হয় লাগেজের অপেক্ষা। দীর্ঘ সময় পার হলেও ব্যাগেজ না আসায় অপেক্ষা আরও বাড়তে থাকে।
লাইভে তিনি বলেন, ‘আমরা ৯টা বাজার ৫ মিনিট আগে ল্যান্ড করছি। এখন বাজে হচ্ছে সকাল ১১টা। ট্রলির জন্য প্রথমে আমরা আধা ঘণ্টা–৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়ালাম। ট্রলির লাইন শেষ হলো, ওয়েট করতে করতে লাগেজ আসে না। এখন বাজে সাড়ে ১১টা, অলমোস্ট ৩ ঘণ্টা! ৩ ঘণ্টার ভোগান্তি… এই ভোগান্তি বলার মতো না।’
অপেক্ষমাণ যাত্রীদের দেখিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের দুর্ভোগের কথা কোথায় এবং কার কাছে জানাবেন। দেশের নাগরিক হিসেবে বারবার এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার আক্ষেপও প্রকাশ করেন তিনি।
ফেসবুক লাইভে ডা. ওরাকাতুল জান্নাত বলেন, ‘এত ভোগান্তি, এগুলো আসলে কাকে বলবেন? আমাদের কিসমত! আমরা এমন এক দেশে জন্মাইছি।’ দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের নাগরিক দুর্ভোগের অভিজ্ঞতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করা এটা এখন মনে হয় যে একটা পাপের পর্যায়ে পড়ে গেছে।’
বিমানবন্দরে নামার পর যাত্রীদের জন্য যেন নানা ধরনের ভোগান্তি অপেক্ষা করে থাকে—এমন মন্তব্যও করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দরে যখন আপনি, আপনারা, আমরা নামব আমাদের জন্য দুনিয়ার ভোগান্তি অপেক্ষা করবে।’
তিনি জানান, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিমানবন্দরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে এবার ট্রলি সংগ্রহ এবং লাগেজ পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় অভিজ্ঞতাটি তাঁর কাছে বিশেষভাবে হতাশাজনক মনে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি লাগেজ পেয়েছেন বলে লাইভে জানান।
বিমানবন্দর যেকোনো দেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য উড়োজাহাজ থেকে নামার পর ইমিগ্রেশন, ব্যাগেজ সংগ্রহ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দ্রুত গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ থাকা জরুরি। বিশেষ করে দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরা বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকা যাত্রীদের জন্য লাগেজ পেতে অতিরিক্ত অপেক্ষা শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা তাই সেবার মান, সমন্বয় এবং অপেক্ষার সময়ের মতো বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে বৃহস্পতিবারের ঘটনায় ঠিক কী কারণে লাগেজ পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ওই দিন লাগেজ সরবরাহে বিলম্বের কারণ এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।









