নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ধলেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে মারধরের অভিযোগের পর পুলিশ ওই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাটি কাটার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বৈঠক শুরুর আগেই সেখানে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের সিপাইপাড়া এলাকায় ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে পরিচিত কাদির সিবিআইয়ের বাড়িতে বৈঠকটি আয়োজন করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল ধলেশ্বরী নদী থেকে মাটি কাটার কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা। স্থানীয়দের দাবি, এককভাবে নদী থেকে মাটি কাটার কার্যক্রম চালানো সম্ভব না হওয়ায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ছামেদ আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক হাসান আলী, বক্তাবলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সহসভাপতি মান্নেক খান এবং যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মেসিসহ ১৪ থেকে ১৫ জনের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বৈঠকে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল প্রধানেরও যোগ দেওয়ার কথা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা যাঁদের বলা হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বৈঠক চলার আগেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল কাদির সিবিআইয়ের বাড়িতে পৌঁছে যায়। ডিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, ছামেদ আলী ও তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা ডিবি পুলিশের সামনে নারীদের পাঠিয়ে পথ আটকে দেন। এই সুযোগে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।
ঘটনাস্থলে যাওয়া ডিবি পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, উপস্থিত ব্যক্তিদের সবাইকে শনাক্ত করতে না পারায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যান বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল প্রধান। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে তাঁর বৈঠকে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তিনি বলেন, ওই বাড়িতে তাঁর বৈঠক থাকার বিষয়টি সত্য নয়। বাড়ির মালিক কাদির সিবিআই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেটিও তাঁর জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
ধলেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে পরিবেশ ও জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ। নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি বা বালু উত্তোলন হলে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক গঠন, তীরবর্তী এলাকার স্থিতিশীলতা এবং আশপাশের বসতভিটা ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতি, পরিবেশগত বিষয় এবং আইনগত বিধিনিষেধ মেনে চলা জরুরি।
এ ঘটনায় এনসিপি নেতাকে মারধরের অভিযোগ, মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধে পুলিশের পদক্ষেপ এবং পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের কথিত বৈঠকের বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে বৈঠকের প্রকৃত উদ্দেশ্য, সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং মাটি কাটার কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযান-পরবর্তী কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।









