কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় লাইসেন্স ছাড়া জ্বালানি তেল মজুদ ও বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে বিপুল পরিমাণ দাহ্য জ্বালানি জব্দের পাশাপাশি অভিযুক্তকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের হাড়াতলী (চাঙ্গিনী মোড়) এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সদর দক্ষিণ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজিব তালুকদার। পুরো অভিযান জুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
অভিযানে ‘আবুল কাশেম এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লাইসেন্সবিহীনভাবে জ্বালানি তেল সংরক্ষণ ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক আবুল হাসেম (৩৮)-এর ভাড়া বাসা ও দোকান থেকে মোট ২৫০ লিটার অকটেন জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ভাড়া বাসা থেকে ২৪৫ লিটার এবং দোকান থেকে আরও ৫ লিটার অকটেন উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলেই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে। একইসঙ্গে জননিরাপত্তা ও বিধিবিধান অনুসরণ করে জব্দকৃত জ্বালানি তেল স্পট নিলামের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত নিলামে ২৫০ লিটার অকটেন সর্বোচ্চ দরদাতা একটি ফিলিং স্টেশনের কাছে ২৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিলাম প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে নিয়ম মেনে এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজিব তালুকদার বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়াই দাহ্য পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য মজুদ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, এসব জ্বালানি অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পাত্রে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের কারণ হতে পারত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জনস্বার্থ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। বাজার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লাইসেন্সবিহীনভাবে দাহ্য জ্বালানি মজুদ শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, বরং এটি একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অপরাধ, যা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোলের মতো দাহ্য পদার্থ অননুমোদিতভাবে সংরক্ষণ করলে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
নিচে অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | হাড়াতলী (চাঙ্গিনী মোড়), বিজয়পুর ইউনিয়ন, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা |
| অভিযান সময় | ১৬ এপ্রিল, সন্ধ্যা ৬:৩০ – রাত ৮:৩০ |
| অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান | আবুল কাশেম এন্টারপ্রাইজ |
| জব্দকৃত জ্বালানি | ২৫০ লিটার অকটেন |
| জরিমানা | ৫০,০০০ টাকা |
| আইন | ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ |
| নিলাম মূল্য | ২৭,৫০০ টাকা |
সামগ্রিকভাবে, এই অভিযান কুমিল্লায় অবৈধ জ্বালানি ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
