লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) গাঁজা চাষ ও বিক্রির অভিযোগে জয়নাল আবেদীন (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে গাঁজা চারা এবং প্রস্তুত গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে শোক এবং উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানটি পরিচালনা করা হয় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে। রাখালিয়া বাজারের জামে মসজিদ সংলগ্ন পুকুরপাড় এলাকায় হঠাৎ তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে সবজি চাষের আড়ালে লুকানো ১৮টি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়। গাছগুলোর উচ্চতা আনুমানিক ৬ থেকে ১৮ ইঞ্চি। পরে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে জয়নাল আবেদীনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদের সুইপার হিসেবে কাজ করতেন।
গ্রেফতারের পর তার ব্যবহৃত স্টোররুমে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে পুলিশ ৫০০ গ্রাম প্রস্তুত গাঁজা এবং ৫৫ পুড়িয়া (প্রায় ১০০ গ্রাম) গাঁজা উদ্ধার করে। স্থানীয়রা জানান, স্টোররুমটি মূলত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম রাখার জন্য ব্যবহার করা হতো। পরিত্যক্ত জায়গার সবজি চাষের আড়ালে জয়নাল আবেদীন গাঁজা চারা রোপণ করতেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত জয়নাল আবেদীন স্বীকার করেছেন যে, তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতেন। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত তৎপর হয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অভিযান রায়পুরসহ লক্ষ্মীপুর জেলার মাদক প্রতিরোধ কার্যক্রমের অংশ।
নিচের সারণিতে অভিযানের মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি | জয়নাল আবেদীন |
| বয়স | ৬০ বছর |
| বসবাস | রায়পুর উপজেলা, রাখালিয়া বাজার |
| পেশা | জামে মসজিদের সুইপার |
| উদ্ধারকৃত গাঁজা চারা | ১৮টি, উচ্চতা ৬-১৮ ইঞ্চি |
| উদ্ধারকৃত গাঁজা (প্রস্তুত) | ৫০০ গ্রাম ও ৫৫ পুড়িয়া (প্রায় ১০০ গ্রাম) |
| অভিযান তারিখ ও স্থান | ৩১ মার্চ, রাখালিয়া বাজার, পুকুরপাড় সংলগ্ন |
| আইনি ব্যবস্থা | মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী প্রক্রিয়া চলমান |
| অভিযানের উদ্দেশ্য | গাঁজা চাষ ও বিক্রি রোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি |
| স্থানীয় মন্তব্য | স্টোররুমে গাঁজা রাখার তথ্য স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে |
এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, গ্রামীণ এলাকায় অবৈধ গাঁজা চাষ ও বিক্রি প্রতিরোধে সচেতন নজরদারি এবং স্থানীয় সহযোগিতা অপরিহার্য। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এই ধরনের কর্মকাণ্ডে কঠোর দৃষ্টিকোণ অবলম্বন করছে, যাতে মাদকদ্রব্যের অবৈধ লেনদেন বন্ধ করা যায় এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
এই ঘটনায় সাধারণ মানুষদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম চিহ্নিত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
