দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং শিল্পকারখানার ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে চার কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানিকৃত এই জ্বালানির জন্য সর্বোচ্চ প্রতি এমএমবিটিইউতে ২৮ ডলারের বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে এই এলএনজি আমদানির প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচিত স্বনামধন্য তিনটি বিশ্বমানের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান—আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর, বিপি সিঙ্গাপুর এবং ভিটল এশিয়া এই চার কার্গো এলএনজি বাংলাদেশে সরবরাহ করবে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাখিল করা দরপত্রে জাহাজভেদে দামের ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে।
দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর দুটি জাহাজে এলএনজি সরবরাহ করবে। এর মধ্যে একটি কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউর দাম ধরা হয়েছে ২৭ দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলার এবং অপর কার্গোর দর ২৩ দশমিক ৯৮ মার্কিন ডলার। এছাড়া বিপি সিঙ্গাপুর সরবরাহকৃত একটি কার্গোর জন্য প্রতি এমএমবিটিইউর দাম প্রস্তাব করেছে ২৮ দশমিক শূন্য ৩ ডলার, যা এই চালানের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ভিটল এশিয়া সরবরাহকৃত শেষ কার্গোটির দাম নির্ধারণ করেছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৬ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, সম্পূর্ণ সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই এই এলএনজি আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পাইপলাইনগুলোতে গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ভারী শিল্প খাতের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কম থাকায় উদ্যোক্তারা তাদের কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা পুরোমাত্রায় সচল রাখতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ ঘাটতি সামাল দিতে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হচ্ছে সরকারকে। তবে বৈশ্বিক নানা কারণে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম যেমন ঊর্ধ্বমুখী, তেমনি নির্দিষ্ট সময়ে জাহাজ পাওয়াটাও বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। বহুমুখী এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখতে বাড়তি ব্যয় হলেও আমদানির এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।









